কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা , ৫সেপ্টেম্বর :
ডাকঘরের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আর থাকছে না প্রচলিত রেজিস্ট্রি পোস্ট পরিষেবা। কেন্দ্রীয় ডাকবিভাগ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে রেজিস্ট্রির যুগ শেষ হচ্ছে। এর জায়গা নিচ্ছে শুধুমাত্র স্পিড পোস্ট পরিষেবা, যার সঙ্গে চাইলে ‘অ্যাড অন সার্ভিস’ হিসেবে রেজিস্ট্রির সুবিধা যোগ করা যাবে। তবে তার খরচ বাড়বে বহুগুণে।
এতদিন পর্যন্ত ডাকবিভাগে দুটি পৃথক পরিষেবা চালু ছিল—
-
রেজিস্ট্রি পোস্ট: চিঠি বা নথি প্রাপকের হাতে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া এবং তার স্বাক্ষর নেওয়ার নিয়ম।
-
স্পিড পোস্ট: নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া, যেখানে প্রাপক না থাকলেও পরিবারের অন্য কেউ গ্রহণ করতে পারতেন।
এখন থেকে আলাদা রেজিস্ট্রি পরিষেবা আর থাকবে না। যদি কেউ নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে নথি পৌঁছে দিতে চান, তবে তাঁকে স্পিড পোস্টের সঙ্গে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রি চার্জ দিয়ে সুবিধা নিতে হবে।
এই পরিবর্তনে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। এতদিন যে কাজ ২৪ টাকায় হয়ে যেত, এখন তার জন্য গুনতে হবে প্রায় ৪০ টাকা স্পিড পোস্ট এবং সঙ্গে বাড়তি রেজিস্ট্রি চার্জ।
অনেকেরই বক্তব্য, “ডাকঘরের সস্তার ভরসাটাই তুলে দিচ্ছে সরকার। কার্যত বাজারটা বেসরকারি কুরিয়ার সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তবে ডাকবিভাগ বলছে, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক পরিষেবাও—
-
OTP ভিত্তিক ডেলিভারি সিস্টেম
-
রিয়েল টাইম অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ
-
দ্রুততর পরিষেবা পৌঁছনোর নিশ্চয়তা
ডাকবিভাগের এক আধিকারিকের কথায়,
“রেজিস্ট্রি পোস্ট অনেক পুরনো ব্যবস্থা। আধুনিক পরিকাঠামোয় স্পিড পোস্ট অনেক বেশি কার্যকর। নতুন যুগের চাহিদা পূরণ করতে এর বিকল্প নেই।”
প্রশ্ন উঠছে, সবাই কি এই খরচ সামলাতে পারবেন?
গ্রামীণ বা নিম্নআয়ের মানুষ, যাঁরা এতদিন সস্তায় সরকারি ডাক পরিষেবার উপর নির্ভর করতেন, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন বড় ধাক্কা হতে পারে।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা বাড়লে নিরাপত্তা ও গতি নিশ্চিত হলেও, ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ কমে যাবে। অর্থাৎ, পরিষেবা থাকবে উন্নত, কিন্তু সবার নাগালের মধ্যে থাকবে তো?




