কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ৬ সেপ্টেম্বর :
বরাহনগরের যুবক গ্রেফতার, মোবাইল ক্লিক করলেই ফাঁস হচ্ছিল গোপন তথ্য !
ট্রাফিক নিয়ম ভাঙেননি অথচ হঠাৎ করেই ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে ট্রাফিক চালান? সাবধান! এটি হতে পারে সাইবার প্রতারণার নতুন কৌশল। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর সাইবার অপরাধ দফতর, অভিযোগ—ভুয়ো ট্রাফিক চালান পাঠিয়ে নাগরিকদের মোবাইল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শোভন সাঁতরা ভুয়ো ট্রাফিক চালানের নোটিশ পাঠাতেন হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএসের মাধ্যমে। সেই বার্তায় ভুয়ো লিঙ্ক দেওয়া থাকত। লিঙ্কে ক্লিক করলেই একটি APK (অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ) ফাইল ডাউনলোড হয়ে যেত।

মোবাইলে ফাইলটি ইনস্টল করলেই—
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য
-
ইউপিআই পাসওয়ার্ড
-
ওটিপি
-
কন্ট্যাক্ট নম্বর ও ফটো
সবই হাতিয়ে নেওয়া যেত। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্ত আর্থিক প্রতারণা চালাত বলে অভিযোগ পুলিশের।
গত মঙ্গলবার বিধাননগর সাইবার অপরাধ থানায় এক গাড়ির মালিক প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের বক্তব্য, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু ডিজিটাল প্রমাণ হাতে আসে। সেগুলির সূত্র ধরে শোভন সাঁতরাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে—
-
একটি অ্যাপল ম্যাকবুক
-
একটি ওয়ান প্লাস নর্ড সিই৩ মোবাইল
-
একাধিক নথি ও ডকুমেন্ট
বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। বিচারকের নির্দেশে শোভনকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিধাননগর পুলিশের এক আধিকারিক বলেন,
“এটি অত্যন্ত নতুন ধরনের প্রতারণা। সাধারণ মানুষকে আমরা অনুরোধ করছি, কোনও ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না, অচেনা APK ফাইল ডাউনলোড করবেন না। ট্রাফিক চালান শুধুমাত্র সরকারি পোর্টাল বা অফিসিয়াল অ্যাপে দেখা সম্ভব।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকেরাও নতুন কৌশল বের করছে। এবার সেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাফিক চালান।
সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
-
সবসময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে।
-
অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজে ক্লিক না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
-
ফোনে অ্যান্টিভাইরাস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা উচিত।




