spot_img
17 C
Kolkata
Tuesday, January 20, 2026
spot_img

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জবাব দিলেন মোদী !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ৬ সেপ্টেম্বর  :

ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া চাপের আবহে নয়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, তিনি এবং মোদী “চিরকাল বন্ধু” থাকবেন। শনিবার সেই মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, তিনিও “সম্পূর্ণভাবে প্রতিদান দিচ্ছেন” ট্রাম্পের অনুভূতিকে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে তিনি দেখছেন “অত্যন্ত ইতিবাচক ও অগ্রসরমান” হিসেবে।

এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ মোদী লিখেছেন—
“মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং উষ্ণ অনুভূতিকে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করছি এবং সম্পূর্ণভাবে প্রতিদান দিচ্ছি। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি খুবই ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী Comprehensive and Global Strategic Partnership রয়েছে।”

এর আগে শুক্রবার, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন—
“আমাদের সম্পর্ক খুবই বিশেষ। আমি সবসময় প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু থাকব। উনি একজন দুর্দান্ত প্রধানমন্ত্রী। তবে এই মুহূর্তে ওঁর করা কিছু কাজ আমার ভালো লাগছে না। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই। ভারত–আমেরিকার মধ্যে সবসময়ই বিশেষ সম্পর্ক বজায় থাকবে। মাঝেমধ্যেই কিছু অমিল দেখা দেয়।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রসঙ্গ ঘিরেই। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে।”

কেন তৈরি হচ্ছে টানাপোড়েন?

  • সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে আমেরিকা ভারতের উপর সেকেন্ডারি ট্যারিফ চাপিয়েছে।

  • ভারতের একাধিক রপ্তানি পণ্যের উপর ট্রাম্প প্রশাসন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যা ব্রাজিল বাদে অন্য কোনও দেশের ক্ষেত্রে এত বেশি নয়।

  • পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ে ট্রাম্প শান্তি স্থাপন প্রস্তাব দিলেও ভারত তা নাকচ করে দেয়।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই শুল্ক আরোপকে “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে সমালোচনা করা হয়েছিল।

এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী মোদী অংশ নেন চিনের তিয়ানজিনে হওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে। সেখানে তাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়তে দেখা যায়। তিন নেতা একে অপরকে আলিঙ্গন, করমর্দন করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন চাপের জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

SCO সম্মেলনের কিছু দিন পর ট্রাম্প বলেন—
“আমরা ভারতকে চীনের কাছে হারাইনি। তবে আমি খুব হতাশ যে ভারত রাশিয়া থেকে এত তেল কিনছে। আমি ওদের জানিয়ে দিয়েছি। আমরা ভারতের উপর খুব বড়সড় শুল্ক চাপিয়েছি—৫০ শতাংশ। তবে আমার সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক ভালো। কয়েক মাস আগে উনি হোয়াইট হাউসে এসেছিলেন, আমরা রোজ গার্ডেনে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও করেছি।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে। তবে মোদী ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত equation এখনও বন্ধুত্বপূর্ণ। তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks