কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ৬ সেপ্টেম্বর :
ব্রাত্যর মন্তব্যের প্রতিবাদে দমদমে বিজেপির মহাসভা, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সেনা-সম্পর্কিত মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নয়া ঝড় উঠেছে। ঘটনাস্থল দুমদুম—যেখানকার বিধায়ক স্বয়ং ব্রাত্য বসু। আর সেই আসনকেই ঘিরে এবার বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিল বিজেপি।
সপ্তাহের শুরুতে বিশেষ অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের ওপর “আক্রমণ” প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। সেখানেই ব্রাত্য বলেন,
“আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের মঞ্চ সেনা ভেঙে দিয়েছিল। তখন আমার মনে পড়ছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কথা, যখন পাকিস্তানি সেনারা রাতারাতি ঢাকায় প্রবেশ করে হত্যা শুরু করেছিল।”
এই মন্তব্যেই বিস্ফোরণ। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ—ভারতীয় সেনাকে পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে তুলনা করে অশালীন মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ঘটনাস্থলেই সরব হন বিজেপি বিধায়করা। নেতা বিরোধী শুভেন্দু অধিকারী প্রবল প্রতিবাদ জানান। তাতে অধিবেশনে উত্তেজনা ছড়ায়, এবং শেষমেশ স্পিকার বিমল বন্দ্যোপাধ্যায় অধিকারীকে দিনভর সাসপেন্ড করেন।
কিন্তু এখানেই থামতে রাজি নয় বিজেপি। শুক্রবার অধিকারী ঘোষণা করেছেন—
“এটি শুধু রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, জাতীয় গৌরব ও সেনার সম্মানের প্রশ্ন। দমদমের মানুষকে জানাতে হবে তাঁদের বিধায়ক কী বলেছেন।”
দলের অন্দরমহলের মতে, দুর্গাপুজোর আগে বিজেপি চাইছে এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে। দলীয় কৌশল অনুযায়ী, শারদোৎসবের আবহে জনতার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়ানোই লক্ষ্য। অধিকারীর নেতৃত্বে শীঘ্রই দমদমে হবে এক বৃহৎ সভা ও মিছিল। পাশাপাশি, বিষয়টি রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে নেতৃত্ব।
একজন বিজেপি নেতা বলেন,
“প্রতিটি ভোটারকে জানতে হবে, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সেনা সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন। ২০২৬ সালে ভোটের সময় মানুষই সঠিক জবাব দেবেন।”
ইতিমধ্যেই বিজেপি ব্রাত্যের মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। দলের বক্তব্য—এটি সেনার মর্যাদায় সরাসরি আঘাত। আর সেই আবেগকে হাতিয়ার করেই রাজ্যজুড়ে সমর্থন বাড়াতে চাইছে তারা।
যদিও তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য—ব্রাত্যের মন্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করছে বিজেপি। শাসকদলের এক নেতা বলেন,
“বাংলার মানুষ সেনার মর্যাদা বোঝেন। বিজেপি শুধু রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এই ইস্যু নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে।”
বিজেপি সংসদীয় দল আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দমদমে সভার তারিখ চূড়ান্ত করবে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুকে ঘিরেই বিজেপি চাইছে তৃণমূলকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিতে।




