কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :লখনৌ,৭ সেপ্টেম্বর :
উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারি বাসভবনের সামনে শুক্রবার ঘটে গেল এক উত্তেজক ঘটনা। ধর্ষণের মামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন হরিয়ানার এক মহিলা। তবে পুলিশের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে তাঁকে আটকানো সম্ভব হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে গৌতমপল্লি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে গাজ়িয়াবাদ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কারণ, গাজ়িয়াবাদেই তিনি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছিলেন।
মহিলার অভিযোগ, গত ২৪ জুন গাজ়িয়াবাদের শালিমার গার্ডেন থানায় তিনি লোকগান শিল্পী উত্তর কুমারের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু প্রায় দু’মাস কেটে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি প্রাথমিক তদন্তেরও অগ্রগতি হয়নি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার ২৫ দিন পর হাই কোর্টের নির্দেশে মামলাটি রেজিস্টার করা হয়। কিন্তু সেখানেই থেমে যায় সবকিছু। অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি বারবার অভিযুক্তের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন, কিন্তু তদন্ত এগোয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে-অবসাদে তিনি লখনৌ চলে আসেন। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পৌঁছে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতির চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত তাঁকে আটক করায় প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
ঘটনার আগে ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। নিজের পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, বিচার না পেলে শেষ অবলম্বন হিসেবেই এই পথ বেছে নেবেন।
এই ঘটনার পরও ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিয়ে গাজ়িয়াবাদ পুলিশের তরফে কোনও সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা নজরদারি শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।
আইনজীবী মহল মনে করছে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আদালতের কড়া প্রশ্ন উঠতে পারে। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, মহিলার মরিয়া পদক্ষেপই প্রমাণ করছে অভিযোগ কতটা গুরুতর, এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




