কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,৭ সেপ্টেম্বর :
পুজোর ভিড়ের আগেই শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন। দক্ষিণদাঁড়ি থেকে সল্টলেকের এএ ব্লককে সরাসরি যুক্ত করতে তৈরি হচ্ছে নতুন বেইলি ব্রিজ। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মিলেছে ইতিমধ্যেই। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে নির্মাণকাজ। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)-কে। কেএমডিএ সূত্রে খবর, আগামী শারদোৎসবের মধ্যেই ব্রিজ চালু হয়ে যাবে।
কেমন হবে নতুন ব্রিজ?
-
দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪৫ মিটার
-
প্রস্থ: ৭.৫ মিটার
-
লেন: দু’টি, অর্থাৎ দুই দিক থেকেই যান চলাচল সম্ভব
-
ভারবহনের ক্ষমতা: আগের লেকটাউনের বেইলি ব্রিজের তুলনায় অনেক বেশি
-
কাঠামো: লেকটাউনের পুরনো বেইলি ব্রিজের আদলে হলেও এটি আধুনিক ও শক্তিশালী
এর ফলে দক্ষিণদাঁড়ি হয়ে ভিআইপি রোড ও সল্টলেকের এএ ব্লকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
২০১৯ সালে উল্টোডাঙা উড়ালপুলে ফাটল ধরা পড়ার পর বিকল্প রুট তৈরি করতে কেষ্টপুর খালের উপর একটি একমুখী বেইলি ব্রিজ নির্মিত হয়েছিল। তবে তা শুধুমাত্র ভিআইপি রোড থেকে সল্টলেকমুখী যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত হতো। নতুন সেতুটি হবে দ্বিমুখী, যা সল্টলেক–কলকাতা ও শহরতলির যোগাযোগ আরও সহজ করবে।
কেষ্টপুরের বাসিন্দা বলেন,
“প্রতিদিন সেক্টর ফাইভে অফিস যেতে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হয়। এই ব্রিজ হলে বিকল্প রাস্তা পাওয়া যাবে, প্রচুর সময় বাঁচবে।”
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ট্র্যাফিক বিভাগের এক অফিসার জানান,
“নতুন ব্রিজ চালু হলে ভিআইপি রোডে চাপ কমবে। পুজোর মরশুমে যানজট মোকাবিলায় স্বস্তি মিলবে।”
উল্লেখ্য ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যর ডোনাল্ড কোলম্যান বেইলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাদের দ্রুত চলাচলের জন্য এই ধরনের ব্রিজ তৈরি করেছিলেন। এর বিশেষত্ব—
-
আগে থেকে তৈরি অংশ ব্যবহার করে অল্প সময়ে স্থাপনযোগ্য।
-
ধাতব বা কাঠের ‘ট্রাস’ কাঠামো ব্যবহার করা হয়।
-
কম উপাদানে অনেক বেশি ভার বহন করতে সক্ষম।
-
প্রয়োজনে সহজেই খোলা যায়, আবার অন্যত্র স্থাপন করা যায়।
শহরে যানজট ও ভিড়ের চাপ কমাতে এই ব্রিজ যে বড় ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে নিশ্চিত প্রশাসন। আর সাধারণ মানুষও আশায় বুক বাঁধছেন—পুজোর আনন্দযাত্রায় এবার হয়তো মিলবে আরও মসৃণ যাতায়াতের অভিজ্ঞতা।




