কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লী ,৭ সেপ্টেম্বর :
রাষ্ট্রপতি ভবনে শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির সরকারি সামাজিক মাধ্যম পেজে বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হলেও, কী নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাম্প্রতিক ভূমিকার প্রেক্ষিতে এই সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)-এর বৈঠকে যোগ দিতে মোদী চিন সফরে যান। জাপান হয়ে বেজিং পৌঁছে তিনি বৈঠক করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে।
এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়, বিশেষত আমেরিকা-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। কারণ সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে ভারতের শুল্কনীতি ও বাণিজ্য ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছিল।
সফরের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে কড়া মন্তব্য করে বলেন—
“আমরা ভারত আর রাশিয়াকে গভীরতম, অন্ধকারতম চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।”
কিন্তু পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প ভিন্ন সুরে বলেন—
“ভারতকে হারাইনি। মোদী আমার খুব ভালো বন্ধু। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সব সময় থাকবে।”
মোদীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী’ আখ্যা দেন। তিনি লেখেন—
“ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারি রয়েছে, আমরা তারই প্রতিদান দেব।”
এই কূটনৈতিক আবহেই রাষ্ট্রপতি ভবনে মোদী–মুর্মুর বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
-
একাংশের মতে, চিন–রাশিয়া সফরের পর রাষ্ট্রপতির কাছে মোদী রিপোর্ট করেছেন, যা ভারতীয় কূটনীতির ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
-
আবার অন্যদের ধারণা, আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েন, পাশাপাশি এসসিও মঞ্চে ভারতের অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হয়েছে।
প্রাক্তন কূটনীতিকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বৈঠক নিয়মিত হলেও, তাৎপর্য বাড়ে যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির মোড় ঘোরে।
এক প্রাক্তন বিদেশসচিব বলেন—
“চিন–রাশিয়া সফর শেষে এবং ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক নিঃসন্দেহে কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।”




