কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :গ্যাংটক, ৮ সেপ্টেম্বর :
উৎসবের মরশুমে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটকদের জন্য এল স্বস্তির খবর। দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে উত্তর সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাচুং। আগামী সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সিকিম রাজ্য সরকার। তবে আপাতত লাচেন খুলছে না।
গত মে মাসে ভয়াবহ ধস, সাঙ্কালন সেতুর ক্ষতি ও টানা বৃষ্টির কারণে উত্তর সিকিমের একাধিক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় লাচুংয়ে।
বিশেষত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, যা গ্যাংটকের সঙ্গে উত্তর সিকিমকে সংযুক্ত করে, তার অবস্থা ছিল ভয়াবহ। অগস্টে টানা বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। আপাতত জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে যান চলাচলের অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখনও ঝুঁকি কাটেনি বলে উদ্বিগ্ন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল।
পর্যটকরা যদিও আপাতত লাচুং যেতে পারবেন, কিন্তু লাচেন এখনই খোলার কোনও পরিকল্পনা নেই। সিকিম পর্যটন দপ্তর সূত্রে খবর, সম্ভবত আগামী পর্যটন মরশুমেই লাচেনের রাস্তা চালু হতে পারে। তবে লাচুংয়ের পাশাপাশি জনপ্রিয় ইয়ুমথাং ভ্যালি ও জিরো পয়েন্টও খুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে উত্তর সিকিমের সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে আরও দুটি গন্তব্য— চোলা ও ডোকলাম। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই কেন্দ্রগুলির জন্যও পারমিট দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ‘ওয়ার ট্যুরিজম’ প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাথুলার মতোই এই গন্তব্যগুলিও যুদ্ধ ইতিহাস এবং সীমান্ত পর্যটনের আকর্ষণ নিয়ে পর্যটকদের টানবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সি এস রাও রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান—
-
গ্যাংটক থেকে লাচুং যাওয়া পর্যটকদের দুপুর ১টার মধ্যে সাঙ্কালন সেতু পার হতে হবে।
-
লাচুং থেকে ফেরার সময় দুপুর ২টার মধ্যে টুং সেতু পার হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়াতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন,
“উত্তর সিকিম বন্ধ থাকলে উত্তরবঙ্গের পর্যটনও ধাক্কা খায়। পুজোর মুখে লাচুং খোলার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চোলা ও ডোকলামের মতো নতুন পর্যটন কেন্দ্র খোলার ফলে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্প ফের ঘুরে দাঁড়াবে।”
মে মাসের ধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষত কাটিয়ে উৎসবের মরশুমেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিকিমের পর্যটন। লাচুং খোলায় ভরসা ফিরছে ভ্রমণপিপাসুদের মনে। তবে লাচেন খুলতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চোলা ও ডোকলামের সূচনা উত্তর-পূর্ব ভারতের ভ্রমণ মানচিত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে।




