কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা, ৮সেপ্টেম্বর :
দেবজিৎ গাঙ্গুলী :
লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সমীকরণ গড়ে তুলতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার দমদম–ব্যারাকপুর ও বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন। বৈঠক হচ্ছে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরে। উপস্থিত থাকবেন সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ছাড়াও স্থানীয় বিধায়ক, শাখা সংগঠনের নেতারাও।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে বিজেপির হাত থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু বনগাঁ রয়ে গেছে বিজেপির দখলেই। বিশেষত মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় গেরুয়া শিবির এখনও প্রভাবশালী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকাকে সামনে রেখে বিজেপি আবারও সেই তাস খেলতে চাইছে। অন্যদিকে, তৃণমূল পাল্টা প্রচারে জোর দিচ্ছে।
ঠাকুরনগরে মতুয়া নেতৃত্বের ভেতরে ভাঙন তীব্র। মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার মতুয়া অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এই অবস্থায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বনগাঁর নেতাদের প্রতি কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে দমদম–ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, কিছু অঞ্চলে বিজেপি এখনও সক্রিয়। অর্জুন সিংকে সামনে রেখে বিজেপি হারানো জমি ফেরত পেতে চাইছে। তবে এই অঞ্চলে তৃণমূলের ভরসা—চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, নির্মল ঘোষ, সোমনাথ শ্যামদের মতো দাপুটে নেতারা। সংগঠনের ভিতও এখানে দৃঢ়। সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিকের সক্রিয়তা নিয়ে দলও সন্তুষ্ট।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বনগাঁর মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণই এ মুহূর্তে তৃণমূলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ব্যারাকপুর–দমদমে সংগঠন মজবুত হলেও বিজেপির পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে এই দুই সাংগঠনিক জেলার জন্য আলাদা কৌশল নির্ধারিত হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।




