কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :মুম্বই , ৮সেপ্টেম্বর :
রবিবার বিকেলে মুম্বইয়ের দহিসর পূর্বের শান্তি নগরের নিউ জন কল্যাণ সোসাইটির ২৩ তলা আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন এক মহিলা। ঘটনায় গুরুতর আহত অন্তত উনিশ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশুরাও।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ বি-উইংয়ের সপ্তম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা বহুতলে। আতঙ্কিত আবাসিকরা দৌড়ে নামতে থাকেন, অনেকে আবার ঘরে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের পাশাপাশি দমকলের অন্তত সাতটি ইঞ্জিন। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায়, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় দমকল কর্মীরা ৩৬ জন আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুরা। সকলকেই দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
-
রোহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক মহিলা প্রাণ হারান।
-
একই হাসপাতালে ভর্তি এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
-
নর্দান কেয়ার হাসপাতালে চার বছরের এক শিশুর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গেছে।
-
প্রগতি ও শতাব্দী হাসপাতালেও কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এখনও অন্তত পাঁচ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, শরীরের নানা অংশে দগ্ধ হওয়া এবং আতঙ্কে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা চলছে এবং কয়েকজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
দমকল দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ভবনের বেসমেন্টে বিদ্যুতের তারে ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই আগুন দ্রুত লিফট ও বৈদ্যুতিক ডাক্ট দিয়ে উপরতলায় ছড়িয়ে পড়ে। দমকল আধিকারিকদের বক্তব্য, “যদি বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হতো, তবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না।”
এই ঘটনার পরে আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে রাত কাটানোর জন্য আপাতত আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনের সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানান, এই বহুতলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল ঠিকঠাক, তবে ইলেকট্রিক তারের সমস্যার কারণেই বিপর্যয় ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবারের এই অগ্নিকাণ্ড মুম্বইবাসীকে ফের মনে করিয়ে দিল, বহুতলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিয়মিত বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ কতটা জরুরি। এক মহিলার মৃত্যু ও উনিশ জনের আহত হওয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক নেমে এসেছে দহিসর এলাকায়।




