কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ৮ সেপ্টেম্বর :
আর মাত্র ক’দিন বাকি, তারপরেই শহর জুড়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আমেজ। আলোর ঝলক, প্যান্ডেলের সজ্জা আর মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় সামলাতে তৎপর হচ্ছে প্রশাসন। এই প্রেক্ষাপটেই আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বড় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা।
লালবাজার সূত্রে খবর, এ বছর যেসব পুজোয় জনসমাগম সর্বাধিক হয়, মূলত সেই সব কমিটির কর্তাদেরই তলব করা হয়েছে। শহরের ১০টি পুলিশ ডিভিশনের নির্বাচিত প্রায় ৭৫০টি কমিটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি হাজির থাকবেন বৈঠকে। অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার উদ্যোক্তা এই বৈঠকে অংশ নেবেন।
শুধু উদ্যোক্তারাই নন, বৈঠকে থাকবেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা, দমকল, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও অন্যান্য প্রশাসনিক দফতরের প্রতিনিধিরাও। কলকাতা পুলিশের সব ওসি, এসি ও ডিসিরাও থাকবেন আলোচনায়।
লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে—
-
অনলাইনে পুজোর অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করার দিকনির্দেশ
-
হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলা
-
প্যান্ডেল নির্মাণে নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধ
-
চাঁদা আদায়ে নিয়মনীতি
-
প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
-
শব্দদূষণ ও পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশিকা
পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “প্রতি বছরই দুর্গাপুজো ঘিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক সমস্যা ও চাঁদা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বার উদ্যোক্তাদের আগেভাগেই সব নিয়ম বোঝানো হবে যাতে শেষ মুহূর্তে সমস্যা তৈরি না হয়।”
লালবাজারের একটি সূত্রের দাবি, কমিশনার মনোজ বর্মা বৈঠকে উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেবেন— আদালতের নির্দেশিকা বা সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা কামনা করবেন যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সহ-সভাপতি শাশ্বত বসু বলেন, “নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পুলিশ কমিশনারও বৈঠক ডাকায় আমরা অবশ্যই যাব। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করতে চাই। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদেরও কিছু মতামত কমিশনারকে জানাব।”
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দুর্গাপুজো কলকাতার শুধু একটি উৎসব নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাই শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সফলভাবে এই উৎসব আয়োজন করা সম্ভব। ফলে ১০ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে ঘিরে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই গুরুত্ব ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।




