কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : নয়াদিল্লী , ৮সেপ্টেম্বর :
বর্ষার দাপটে হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি ঢল নেমে আসতেই ফুলে ফেঁপে উঠেছে যমুনা। নদীর উত্তাল জলে ভেসে যাচ্ছে আগ্রার নীচু অঞ্চল, এমনকি জল এসে ঠেকেছে তাজমহলের দেওয়াল পর্যন্ত। যদিও বিশেষজ্ঞরা আশ্বাস দিচ্ছেন—শাহজাহানের স্বপ্নের এই অমর কীর্তি আপাতত নিরাপদই রয়েছে।
রবিবার জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে এখন সরাসরি তাজমহলের প্রাচীরে এসে ঠেকেছে। দৃশ্যটি যেন হুবহু গত বছরের পুনরাবৃত্তি। স্থানীয় ইতিহাসবিদ রাজ কিশোর রাজে বলেন, “২০২৩ সালে যেমনটা হয়েছিল, এবারও জল তাজমহলের দেওয়াল পর্যন্ত এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তাজমহল এমনভাবে নির্মিত হয়েছিল, যাতে এই ধরনের জলোচ্ছ্বাস সামাল দিতে পারে।”
শুধু ঐতিহ্য নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।যমুনার দুই তীরে বসবাসকারী বহু পরিবার জলবন্দি। তড়িঘড়ি নিজেদের ঘরের আসবাব ও সামগ্রী বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউ আবার সরকারি ত্রাণশিবিরে।
আগ্রা জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তাজমহল সংলগ্ন অঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তা ও টহলদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের প্রবেশে আপাতত কোনও বাধা নেই, তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু আগ্রাই নয়, যমুনার এই ভয়াল রূপে বিপাকে পড়েছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা। দিল্লিতে বারবার বাঁধ উপচে রাস্তা জলমগ্ন হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যাহত, বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার চাষিরা বলছেন, টানা জলবন্দি অবস্থায় ফসলের বড় ক্ষতি হতে পারে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যমুনার খামখেয়ালি স্রোতকে সহ্য করছে তাজমহল। মুঘল যুগে নদীর পাশে তাজমহলকে এক উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর তোলা হয়েছিল—যা আজও প্রমাণ করছে সেই দূরদৃষ্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতত তাজমহলের ভিতের কোনও ক্ষতি হয়নি, তবে বারবার নদীর জলোচ্ছ্বাস ভবিষ্যতে স্থাপত্যের স্থায়িত্বের প্রশ্ন তুলতে পারে।
তাজমহল শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, ভারতের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের প্রতীক। সেই সৌধের দেওয়ালে ইয়মুনার ফেনায়িত ঢেউ আছড়ে পড়তে দেখা—একটি আতঙ্কজনক চিত্র। আগ্রাবাসীরা যেমন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, তেমনই বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রশ্ন—প্রকৃতির কাছে কতটা সুরক্ষিত এই অমূল্য ঐতিহ্য ?
যমুনার বন্যায় সাধারণ মানুষের দুর্দশার পাশাপাশি তাজমহলকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। যদিও আপাতত সুরক্ষিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবুও নদীর বারবার উত্থান-পতনে ঐতিহ্য রক্ষার ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েই আলোচনা তীব্র হচ্ছে।




