কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ৯ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হতে চলেছে প্রথম নির্বাচন। আগামী মঙ্গলবার ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসছে সেই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের আসর। ভোট হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদের মোট ৪১ টি পদে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। অন্যদিকে, ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১,০৩৫ জন প্রার্থী। অর্থাৎ, একেকজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হবে। ভোটদানের জন্য থাকছে দুটি পৃথক ব্যালট—একটি ডাকসুর জন্য, অন্যটি হল সংসদের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বারের ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—
-
বিএনপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,
-
জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির,
-
এবং গত বছরের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-এর মধ্যে।
এ ছাড়া নির্বাচনী ময়দানে রয়েছে বাংলাদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (বামপন্থী ছাত্র সংগঠন) এবং গণ অধিকার ফোরাম সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
ভোটারদের দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি নিবদ্ধ রয়েছে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদের দিকে। এই আসনকে ঘিরে চলছে সর্বাধিক প্রচার, বিতর্ক এবং ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ হিসাব-নিকাশ।
প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি।
-
ডাকসুর ভোট হবে পাঁচ পাতার ওএমআর ব্যালট শিটে।
-
হল সংসদের ভোটের জন্য থাকছে এক পাতার ওএমআর ব্যালট।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এর ফলে ভোট গণনায় স্বচ্ছতা ও গতি আসবে।
ভোট ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইতিমধ্যেই। রবিবার থেকেই ঢাকার রাজনীতির অন্দরমহলে জল্পনা চলছিল—ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার সেনা নামাতে পারে। তবে সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে সেনা কোনও ভূমিকা নেবে না।
যদিও নিরাপত্তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ক্যাম্পাসে।
প্রসঙ্গত, গণবিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ইউনূস সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায়, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের অনুপস্থিতি রীতিমতো ব্যতিক্রমী এক ছবি তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের ভোট শুধু ছাত্র সংসদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্র রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে এগোবে তারও ইঙ্গিত দেবে।




