কলকাতা টাইমস নিউজ :কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর :
বিস্তারিত দেবজিৎ গাঙ্গুলীর কলমে :
ঢাকা-কলকাতা সম্পর্কের মিষ্টি সুরে কূটনীতির ঝাঁঝালো স্বাদ !
দুর্গোৎসবের আগে বঙ্গজীবনের চিরন্তন আনন্দকে আরও রঙিন করতে আসছে পদ্মার রূপালি সম্পদ। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে—ভারতে রপ্তানি করা হবে ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ। উৎসবের মরসুমে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ, আবার অসম-ত্রিপুরা পর্যন্ত বাঙালি ঘরে পৌঁছবে ইলিশের গন্ধে মাখা রান্না।
তথ্য বলছে, এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন নেমেছে ইতিহাসের অন্যতম নিম্নস্তরে। নদী ও সমুদ্রে মৎস্য আহরণে ব্যর্থতায় জেলেদের অবস্থা চরম সংকটজনক। বাজারে দাম আকাশছোঁয়া। তবু বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখল এই বিশেষ রপ্তানি—যা কেবল বাণিজ্য নয়, কূটনীতির এক প্রতীকী বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ন্যূনতম ১২.৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৫২৫ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায়)। বিস্ময়ের বিষয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর চেয়ে বেশি দাম দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। অর্থাৎ, ভারতের বাজারে উৎসব উপলক্ষে ইলিশ পৌঁছবে তুলনামূলকভাবে সস্তায়।
ঢাকায় ক্ষমতাসীন মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবারও বজায় রাখল শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুরু হওয়া এক ঐতিহ্য। বছর কয়েক আগে যেমন আম পাঠিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে পৌঁছেছিল বন্ধুত্বের বার্তা, তেমনি এবারও ইলিশ হয়ে উঠল সম্পর্কের দূত।
বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানান, ‘পদ্মার ইলিশ আসছে সীমান্ত পেরিয়ে, উৎসবের আনন্দে যোগ দিতে।’
শুধু মাছ নয়—বাঙালির কাছে ইলিশ এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। পূজোর ভোজে ইলিশের পদ না থাকলে উৎসব যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তাই প্রতিবছর ইলিশ আসা মানে শুধু বাণিজ্য নয়, দুই বাংলার আবেগ ও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
বাংলাদেশে উৎপাদন কমায় জেলেরা অসুবিধায় পড়লেও ভারতের দিকে রপ্তানি—ঢাকা একদিকে অর্থনৈতিক আয়ের পথ রাখছে খোলা, অন্যদিকে দুই দেশের বন্ধুত্বকেও চাঙা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “এ একধরনের সফট পাওয়ার কূটনীতি, যেখানে খাবারের টেবিলে সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হয়।”
সংক্ষেপে, দুর্গোৎসবের আগে সীমান্ত পেরিয়ে পদ্মার রূপালি ধরা পৌঁছবে ভারতের বাজারে। আর এই রূপালি উপহার প্রমাণ করছে—ইলিশ শুধু পাতে নয়, কূটনীতির কাগজেও লিখে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস।




