কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর :
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে চলা উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে না দক্ষিণ ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দল—ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) এবং বিজু জনতা দল (বিজেডি)। সোমবার আলাদা ঘোষণার মাধ্যমে তেলঙ্গানা ও ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের দল স্পষ্ট করেছে, তাঁদের সাংসদেরা ভোটপর্বে অনুপস্থিত থাকবেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
তেলঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)-এর পুত্র ও দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি কেটি রামা রাও সোমবার জানান,
“তেলঙ্গানার কৃষকেরা ইউরিয়ার অভাবে চরম সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতেই আমাদের দল ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, যদি নির্বাচনে নোটা (None of the Above) বিকল্প থাকত, তবে দল সেটিই ব্যবহার করত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিআরএস এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কৃষক-কেন্দ্রিক রাজনীতির বার্তা দিল, যা ভবিষ্যতের রাজ্য রাজনীতিতে দলের কৌশলগত অবস্থানকে দৃঢ় করবে।
অন্যদিকে, ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডির তরফে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য তথা সাংসদ সস্মিত পাত্র। তিনি বলেন,
“আমরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট—দুটির থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখতে চাই। বিজেডির অগ্রাধিকার কেবল ওড়িশা এবং সাড়ে চার কোটি মানুষের উন্নয়ন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেডির এই সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে দলটির ‘কিংমেকার’ ইমেজ বজায় রাখারই কৌশল।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই ইস্তফা দেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের জন্যই মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোটাভুটি। নির্বাচিত প্রার্থী আগামী পাঁচ বছর দেশের উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন।
এই লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী হলেন—
-
সিপি রাধাকৃষ্ণন (এনডিএ সমর্থিত)
-
বি সুদর্শন রেড্ডি (ইন্ডিয়া জোট সমর্থিত, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি)
লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদেরা এদিন প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দের ভিত্তিতে ভোট দেবেন। কোনও প্রার্থীর প্রাপ্ত প্রথম পছন্দের ভোট সমান হলে তখন দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা করা হবে।
সংসদীয় গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী এনডিএ সমর্থিত প্রার্থী রাধাকৃষ্ণন অনেকটা এগিয়ে আছেন। শুধু বিজেপি শরিকরাই নয়, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহনের দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস-ও সমর্থন জানিয়েছে তাঁকে। ফলে এনডিএ প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
দুটি আঞ্চলিক দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে তেমন কোনও প্রভাব না ফেললেও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট।
-
বিআরএস কৃষক-স্বার্থকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য আলাদা ইমেজ গড়তে চাইছে।
-
বিজেডি জাতীয় স্তরে কোনও জোটের সঙ্গে এখনই হাত মেলাতে চাইছে না, বরং ‘স্বতন্ত্র অবস্থান’ ধরে রেখে ভবিষ্যতের দরকষাকষিতে শক্তি বাড়াচ্ছে।
সব মিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ফলাফলের দিক থেকে নাটকীয়তা কম থাকলেও, বিআরএস ও বিজেডির বয়কট জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।




