spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

ছাত্র-যুব বিদ্রোহে উত্তাল নেপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা – পুলিশের গুলিতে নিহত ১৯

কলকাতা টাইমস নিউজ  :আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ৯ সেপ্টেম্বর  :


শান্ত নেপাল। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে পূর্ব নেপালের প্রদেশ পর্যন্ত একযোগে ফেটে পড়েছে ছাত্র-যুবদের ক্ষোভ। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে উত্তাল বিক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পৈতৃক বাড়িতে ইটবৃষ্টি, আর তারই মধ্যে সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৯ জন। আহত আছেন আড়াইশোরও বেশি। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হল নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে।

সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স-সহ ২৬টি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের এই পদক্ষেপেই ক্ষোভে রাস্তায় নামে ছাত্র-যুবসমাজ। সোমবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু হলেও দুপুর গড়াতেই তা রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে।

পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয় হাজারো বিক্ষোভকারী। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে স্লোগান— “দুর্নীতি বন্ধ হোক”, “স্বৈরশাসন মানি না”। প্রথমে অল্পসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিশাল বাহিনী এসে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালায়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি— পুলিশ কেবল আকাশে নয়, সরাসরি তাঁদের লক্ষ্য করেই গুলি চালিয়েছে। কারও গায়ে, কারও হাতে, আবার কারও মাথায় লেগেছে গুলি। ফলত মৃত্যু ১৯, আর আহত আড়াইশোরও বেশি।

কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে, পূর্ব নেপালের দামাক এলাকায় অবস্থিত ওলির পৈতৃক বাড়ি। সেখানে ইট-পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের পাল্টা গুলিতেও পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

ক্রমবর্ধমান অশান্তির মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ওলির বাসভবন বালুওয়াতারে মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগপত্র জমা দেন। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল আগেই।

বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে— সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমন করছে। আরএসপি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে,

“প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন হোক। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিক্ষোভ এখন শুধু রাজধানী নয়, ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ। যান চলাচল বন্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয়েছে র‌্যাফ ও সেনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করা কেবল বাহানা। আসল ক্ষোভ দুর্নীতি, অদক্ষতা ও সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে। যুবসমাজ মনে করছে, নেপাল ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক আদর্শ থেকে সরে গিয়ে আবারও দমননীতির পথে হাঁটছে।

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতোই এবার নেপালেও ছাত্র-যুব প্রজন্ম সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এই অস্থিরতা ভারতের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। প্রশ্ন এখন একটাই— এই বিক্ষোভ সামলাতে পারবে কি ওলির সরকার, নাকি সত্যিই ফের ঘুরে যাবে ভাগ্যের চাকা নেপালে?

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks