কলকাতা টাইমস নিউজ : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৯ সেপ্টেম্বর :
অবশেষে নেপালের অশান্ত পরিস্থিতির কাছে মাথা নত করলেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন রাষ্ট্রপতির কাছে। দিনভর উত্তাল বিক্ষোভ, সংসদ ভবনে আগুন লাগানো, রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেন ওলি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী প্রকাশ সিলওয়াল সাংবাদিকদের সামনে পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন।
দুই দিন ধরে উত্তাল নেপাল। দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের প্রধান দাবি—
-
দুর্নীতি ও দমননীতি বন্ধ হোক।
-
সরকারের পদত্যাগ।
-
প্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন।
সোমবারের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২৫০ জনের বেশি। হাসপাতালগুলো ভর্তি আহত ছাত্র–যুবক দিয়ে।
পদত্যাগ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ওলি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ওলির বক্তব্য,
“যে কোনও ধরনের সহিংসতা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। আমাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”
তিনি আজ সন্ধ্যা ৬টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে। তবে বৈঠকের আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সেনা সূত্রের দাবি, ওলি প্রথমে সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেলের কাছে নিজের বাসভবন সুরক্ষিত রাখা ও নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সহায়তা চান। সেনাপ্রধান নাকি তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন—দেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে।
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন, ওলি দুবাই পালিয়ে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
-
কাঠমান্ডুতে ব্যাপক সেনা মোতায়েন।
-
মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যকে ভিআইপি হেলিকপ্টারে করে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে আনা হয়।
-
অন্তত পাঁচটি সেনা হেলিকপ্টার মন্ত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়।
-
সন্ধ্যা নাগাদ বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়, বাতিল হয় সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।
প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন, সিংহ দরবারসহ একাধিক সরকারি ভবনে হামলা চালান আন্দোলনকারীরা।
-
সংসদ ভবন: আগুনে ভস্মীভূত, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় কাঠমান্ডুর আকাশ।
-
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও রাষ্ট্রপতির বাড়ি: ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।
-
সিংহ দরবার: মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন ঘিরে ভাঙচুর, দফায় দফায় সংঘর্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ নিছক সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে বহুদিনের ক্ষোভ— দুর্নীতি, বেকারত্ব, এবং অকার্যকর প্রশাসন। পরিস্থিতি এতটাই বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে যে সংসদীয় গণতন্ত্র, এমনকি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
হিমালয়ের কোলে এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ফের এক গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবেশ করল। ওলির পদত্যাগে ক্ষণিকের শান্তি আসতে পারে, তবে জেন জি-র নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার গন্তব্য কোথায়, তা নিয়ে দিশেহারা নেপাল-সহ গোটা দক্ষিণ এশিয়া।




