কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,৯ সেপ্টেম্বর :
বহুল আলোচিত সিনেমা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস ’এর মুক্তি রুখতে দায়ের হওয়া মামলা সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিল। ফলে নির্মাতা–পরিচালক দলের কাছে এই রায় বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
এই মামলা করেছিলেন শহরের বাসিন্দা শান্তনু মুখোপাধ্যায়। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ১৯৪৬ সালের দাঙ্গাকালীন কেন্দ্রীয় চরিত্র গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়–এর (জনপ্রিয় নাম গোপাল পাঠা) নাতি। অভিযোগ, সিনেমায় তাঁর দাদুকে বিকৃত ও কুরুচিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
-
শান্তনুর দাবি, ছবিতে তাঁকে “পাঠা” (ছাগল) ও “কসাই” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
-
অথচ বাস্তবে গোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সেই সময় হিন্দু মহল্লাগুলির রক্ষক।
-
শান্তনুর বক্তব্য, তাঁর দাদু বউবাজারে ছাগলের মাংসের দোকান চালালেও, সেই সূত্রে তাঁকে অপমানজনক নামে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ছবিতে দাদুর ঐতিহাসিক ভূমিকা বিকৃত করে তাঁর উত্তরাধিকারকে অসম্মান জানানো হয়েছে।
শান্তনুর আরও অভিযোগ ছিল, সেন্সর বোর্ড কী কী দিক খতিয়ে দেখে ছবিকে ছাড়পত্র দিয়েছে, তা জানার জন্য তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সঠিক উত্তর পাননি। তাঁর বক্তব্য, পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী নিজেই সেন্সর বোর্ডের সদস্য হওয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় থাকেনি। তাই ছবির ছাড়পত্র প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা এদিন স্পষ্ট জানান—
-
শুধুমাত্র আরটিআই–এর উত্তর না পাওয়ার ভিত্তিতে সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন করা যায় না।
-
আবেদনকারীর অভিযোগ এই মামলার কাঠামোয় টেকসই নয়।
ফলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আবেদনকারী মূলত তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে। এই কারণে আর রিট আবেদন চলতে পারে না।”
‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত, তার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। নির্মাতাদের দাবি, ছবিতে সেই সময়কার বাস্তব ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে।
যদিও এর আগে শান্তনু মুখোপাধ্যায়—
-
ছবির পরিচালককে আইনি নোটিস পাঠান,
-
একাধিক এফআইআর দায়ের করেন,
-
এমনকি সেন্সর বোর্ডে আরটিআই–ও করেন।
তাঁর দাবি ছিল, ছবির বিতর্কিত দৃশ্য বাদ দেওয়া হোক বা সংশোধন করা হোক, এবং পশ্চিমবঙ্গে ছবির মুক্তিতে স্থগিতাদেশ জারি করা হোক।
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে আপাতত ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’–এর মুক্তিতে কোনও আইনি জটিলতা রইল না। তবে মামলাকারীর আইনজীবী ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রাখছেন।
এদিকে, ছবিটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতিহাসের সংবেদনশীল অধ্যায়কে সিনেমায় কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিতর্ক এখন আরও গাঢ় হচ্ছে।




