spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিমান চলাচল ব্যাহত !

কলকাতা টাইমস নিউজ  : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৯ সেপ্টেম্বর  :

ত্রিভুবন বিমানবন্দর বন্ধ, ভারত থেকে নেপালগামী একাধিক উড়ান বাতিল


হিমালয়ের দেশ নেপাল এখন ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। রাজধানী কাঠমান্ডুতে জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে সহিংস বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করায় মঙ্গলবার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাতিল হয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব উড়ান। এতে ভারত থেকে নেপালগামী একাধিক উড়ান ব্যাহত হয়। ফলে ভারত সরকার সতর্কতামূলক পরামর্শ (advisory) জারি করেছে।

 সেনার নজিরবিহীন মোতায়েন

  • বিমানবন্দরে শতাধিক সেনা নামানো হয়েছে।

  • অন্তত পাঁচটি সেনা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

  • আগুন ও ধোঁয়ায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 ভারতের উড়ানগুলির অবস্থা

বিক্ষোভকারীদের লাগানো আগুন থেকে উঠে আসা ঘন ধোঁয়ার কারণে দক্ষিণ দিক থেকে আগত উড়ানগুলিকে নামতে দেওয়া হয়নি। নেপালের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জ্ঞানেন্দ্র ভূল বলেন,

“ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গিয়েছিল। তাই দক্ষিণ দিক থেকে আগমনকারী বিমানগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়।”

  • ইন্ডিগো: দিল্লি থেকে 6E1153 ও মুম্বই থেকে 6E1157 নম্বর উড়ান কাঠমান্ডুতে নামতে না পেরে লখনৌতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

  • এয়ার ইন্ডিয়া: দিল্লি–কাঠমান্ডু–দিল্লি রুটে অন্তত তিনটি উড়ান বাতিল। সংস্থার তরফে জানানো হয়, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • একাধিক ভারতীয় উড়ান আকাশে চক্কর কাটতে দেখা গেছে, ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী।

 ভারতের প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়—

“অনেক তরুণ প্রাণহানিতে আমরা শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।”

সঙ্গে আরও জানানো হয়েছে—

  • ভারত নেপালের ‘নিকটতম বন্ধু ও প্রতিবেশী’ হিসেবে শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।

  • নেপালে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, স্থানীয় নিয়ম মানতে এবং বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

 ওলিকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

সেনা সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে তাঁর সরকারি বাসভবন বলুওয়ারটার থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হয় । এমনকি তাঁকে দুবাই পাঠানোর জন্য হিমালয়া এয়ারলাইনস প্রস্তুত রাখা হয়। সরকারি ভাবে বলা হয়, উদ্দেশ্য ছিল ‘চিকিৎসা করানো’। তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, পদত্যাগের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন ।

এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা থেকে। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও এক্স (টুইটার) বন্ধ করে দেওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সোমবার লক্ষাধিক যুবক রাস্তায় নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। নিহত হন অন্তত ১৯ জন। এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে সবচেয়ে ভয়াবহ নাগরিক দমন অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।

অল্প সময়েই আন্দোলনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খোলার দাবির বাইরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিরুদ্ধে জনরোষে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকা নেপাল এখন কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। বিমানবন্দর বন্ধ, সেনার তৎপরতা, তরুণ প্রজন্মের অগ্নিগর্ভ বিক্ষোভ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে এগোচ্ছে। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর চোখ এখন কাঠমান্ডুর দিকে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে নতুন বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks