spot_img
28 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

বালি পাচার দুর্নীতিতে ইডির নজিরবিহীন অভিযান !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা,৯ সেপ্টেম্বর  :

রাজ্যে ২২ জায়গায় তল্লাশি, কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম–নদিয়া সর্বত্র হানা


গোরু, কয়লা ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার বালি পাচার কাণ্ডে নেমে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকাল থেকে একযোগে রাজ্যের মোট ২২টি ঠিকানায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা—সব জায়গাতেই তল্লাশি চলে। অভিযানে সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

প্রধানত জিডি মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার কর্ণধার অরুণ সরাফের সল্টলেকের বাড়ি এবং অফিসে হানা দেয় ইডি। পাশাপাশি তাঁর সংস্থার একাধিক কর্মী, ডিরেক্টর এবং সহযোগীদের বাড়িতেও চলে তল্লাশি।

  • বর্তমান ডিরেক্টর: ধীমান চক্রবর্তী ও মনোসিতা ঘোষ (বেহালা)।

  • অন্য অভিযুক্ত: বিমা এজেন্ট সঞ্জীব বয়েড (রিজেন্ট কলোনি, কলকাতা), শেখ জাহিরুল আলি (গোপীবল্লভপুর), ব্যবসায়ী সৌরভ রায় (পশ্চিম মেদিনীপুর), লরি মালিক দিলীপ প্রধান (পূর্ব মেদিনীপুর) প্রমুখ।

অন্যদিকে ইডির অভিযোগ, সরকারি অনুমতি বা ‘ক্যারিং অর্ডার (সিও)’ জালিয়াতি করে একাধিক লরিতে বারবার বালি তোলা হতো।

  • বৈধ নথির নম্বর জাল করে ব্যবহার করা হতো বহু গাড়িতে।

  • সরকারি কিউআর কোড জাল করে বালি তুলত পাচারকারীরা।

  • পরে বেশি দামে বিক্রি করে সেই অর্থ শেল কোম্পানি ও বিমার মাধ্যমে সাদা করা হতো।

  • কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে সরকারের। এর বড় অংশ পাচার হয়ে গিয়েছে দেশের বাইরে।

মূলত ই ডির তল্লাশি চালায়

  • সল্টলেক (কলকাতা): অরুণ সরাফের বাসভবন ও অফিস।

  • বেহালা: কোম্পানির কার্যালয় ও ডিরেক্টরদের বাড়ি।

  • রিজেন্ট কলোনি: বিমা এজেন্ট সঞ্জীব বয়েডের বাড়ি।

  • ঝাড়গ্রাম (গোপীবল্লভপুর): সুবর্ণরেখা নদী থেকে অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগ। স্থানীয় জাহিরুল আলির তিনতলা বাড়ি ঘিরে তল্লাশি।

  • পশ্চিম মেদিনীপুর (যমুনাবালী): বালি ব্যবসায়ী সৌরভ রায়ের বাড়ি।

  • পূর্ব মেদিনীপুর (খেজুরি): লরি ব্যবসায়ী দিলীপ প্রধানের বাড়ি।

  • নদিয়া (কল্যাণী): ডিরেক্টর ধীমান চক্রবর্তীর বাড়িতে তল্লাশি।

পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,

  • কয়েক বছরের মধ্যেই সাধারণ মানুষ কোটি টাকার প্রাসাদ তুলেছেন।

  • চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের একাংশও জড়িত।

  • অনেক সময় রাতের অন্ধকারে নদী থেকে বালি তুলে লরি করে পাচার করা হতো।

দিনভর তল্লাশির পরে কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও বিপুল নথি ও ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। গোয়েন্দাদের দাবি, এগুলো থেকেই ধাপে ধাপে চক্রের গোড়ায় পৌঁছনো যাবে।

তল্লাশি চলাকালীন কল্যাণীতে ইডির এক আধিকারিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুজোর মুখে বালি পাচার নিয়ে রাজ্যজুড়ে এই অভিযান রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার ঝড় তুলেছে। শাসকদল ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম ওঠায় তৎপর হয়েছে প্রশাসনও। ইডির পরবর্তী পদক্ষেপেই স্পষ্ট হবে, এই চক্র কতটা গভীরে প্রোথিত এবং কারা এর আসল নিয়ন্ত্রক।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks