spot_img
28 C
Kolkata
Wednesday, February 18, 2026
spot_img

শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর নেপালেও জেন জি বিদ্রোহ : নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ৯ সেপ্টেম্বর  :


ভারতের চারপাশে যেন এক অস্থিরতার বলয় তৈরি হচ্ছে। একে একে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আর এখন নেপাল—প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে উঠছে দুর্নীতি বিরোধী প্রতিবাদের ঝড়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি যে পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তার ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এই অস্থিরতা কি নিছক স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ, নাকি এর পেছনে সক্রিয় অন্য কোনও শক্তি?

নেপালের তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধকরণে ক্ষুব্ধ। কিন্তু শুধু এই কারণেই নয়, ক্ষুদ্র পাহাড়ি রাষ্ট্রের যুবসমাজ হতাশ দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর প্রশাসনে। তারা চাইছে ক্ষমতার পালাবদল। একাংশের দাবি, নেপালকে ফের হিন্দু রাষ্ট্র এবং রাজতন্ত্র-এ ফিরতে হবে।

এই আবহে ফের সক্রিয় হয়েছেন নেপালের প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র বিক্রম সিং দেব। ২০০১ সালে রাজপরিবারে গণহত্যার পর তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন, তবে ২০০৮ সালে মাওবাদী আন্দোলনের ফলে তাঁকে সিংহাসন ছাড়তে হয়। বিদেশে দীর্ঘ নির্বাসনের পর তাঁর দেশে ফেরা যেন আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে তাঁর আগমনের দিনে হাজারো মানুষের জমায়েত ও “রাজতন্ত্র ফিরুক” স্লোগান সেই অসন্তোষকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

অদ্ভুত কাকতাল—একদা মাওবাদী কমান্ডার ছিলেন যিনি, আজ সেই দুর্গা প্রসাই-ই রাজতন্ত্র এবং হিন্দুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের দাবি, গত ২৮ মার্চ কাঠমান্ডুতে তাঁর নেতৃত্বেই হিংসার সূত্রপাত ঘটে, যাতে নিহত হন তিনজন। শতাধিক মানুষ গ্রেফতার হন, যার মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক পার্টির (আরপিপি) শীর্ষ নেতারা।

নেপালে রাজতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে শুধু আরপিপি নয়, একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও যুক্ত হয়েছে। একত্রিত হয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জয়েন্ট পিপলস মুভমেন্ট কমিটি’। এই কমিটির নেতাদের মধ্যে দুর্গা প্রসাই রয়েছেন অন্যতম। সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করতে পারে বলে খবর। আরপিপির ভাইস প্রেসিডেন্ট রবীন্দ্র মিশ্র এবং সাধারণ সম্পাদক সমশের রানার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

যুবসমাজের হাতে লাল-নীল জাতীয় পতাকা, কণ্ঠে শ্লোগান—“দুর্নীতি বন্ধ করো, সোশ্যাল মিডিয়া নয়।” ছাত্রছাত্রীদের দাবি, সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নেপালের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। তরুণদের কথায়, “আমাদের লড়াই কেবল সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের বিরুদ্ধে নয়, বরং দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে।”

অশান্ত নেপাল ভারতের কাছে বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।

  • সীমান্ত সমস্যা

  • চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব

  • মাদক ও জাল নোট চোরাচালান
    —এই সব মিলিয়ে নেপাল অশান্ত হলে ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশ্ন উঠছে, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো নেপালের এই আন্দোলনের পেছনেও কি বাহ্যশক্তির ভূমিকা রয়েছে? পাকিস্তান, চিন, না কি আমেরিকা—কার স্বার্থে এই অস্থিরতা? নেপালের ভেতরে-বাইরে এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

 সব মিলিয়ে, নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। রাজতন্ত্র ও হিন্দুত্ব ফেরানোর দাবিতে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি যদি আরও ছড়ায়, তবে তা শুধু নেপালের ভবিষ্যৎ নয়, ভারতের কূটনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks