কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১০ সেপ্টেম্বর :
অন্তঃসত্ত্বা এক নারী–সহ বীরভূমের দুই পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের ছয় সদস্যকে মাত্র দু’দিনের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে দায়ের মামলায় মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে—আইন যেখানে নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ৩০ দিনের সময়সীমা দিয়েছে, সেখানে এত তাড়া কীসের? কেন দু’দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে পরিবারগুলোকে ডিপোর্ট করা হলো?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। তবে আবেদনে ত্রুটি থাকার কারণে একসময় হতাশ হয়ে মামলা খারিজের সতর্কবার্তাও দেন বিচারপতিরা। যদিও তার আগেই কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন—
“আইনে বলা আছে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য ৩০ দিন সময় রাখতে হবে। তা হলে দু’দিনের মধ্যে কীভাবে রিপোর্ট তৈরি হলো? কীসের এত তাড়া যে, স্পেশাল অফিসার জানানো মাত্রই পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলেন? রোহিণী থানার বাংলা বস্তি থেকে ৩০ জনকে একসঙ্গে চিহ্নিত করা হলো, তাঁদের সবাই বাংলাদেশি—এই সিদ্ধান্তে এত তাড়াতাড়ি কীভাবে এলেন?”
কেন্দ্রীয় আইনজীবীদের বক্তব্য, যেহেতু দিল্লি থেকেই ওই পরিবারগুলিকে আটক করে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাই মামলা হওয়া উচিত দিল্লি বা গুয়াহাটি হাইকোর্টে। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, কেবল ওই ছ’জন নয়, আরও অনেককেই ডিপোর্ট করা হয়েছে, কারণ তাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি ছিল না।
হাইকোর্ট এও জানতে চায়, কেন মামলাকারী পরিবারগুলো কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট দাখিল করল, যখন আগে থেকেই জানত পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে? দিল্লি হাইকোর্টে ডিপোর্টেশনের নির্দেশ প্রথমে চ্যালেঞ্জ করে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল কেন? আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলাকারী পরিবারগুলির আইনজীবীকে বৃহস্পতিবার জানাতে হবে—এই মামলা তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে চালাতে চান নাকি দিল্লি হাইকোর্টে।
আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারের সদস্যরা গৃহকর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। সমন্বয়ের অভাবে একইসঙ্গে দিল্লি ও কলকাতা—দু’জায়গায় মামলা দাখিল হয়েছিল। তবে তাঁদের লক্ষ্য একটাই—পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে দেশে ফেরানো।
এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার। ছোট শিশু–সহ মোট ছয়জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আইনি জটিলতা ও আদালতের এক্তিয়ার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে তাঁদের দেশে ফেরা কবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
মাত্র দু’দিনে নাগরিকত্ব যাচাই ও ৩০ জনকে একসঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের উপর। কলকাতা হাইকোর্ট এখন সিদ্ধান্ত নেবে, এই মামলার শুনানি এখানেই চলবে নাকি দিল্লি হাইকোর্টে সরানো হবে। তবে যতক্ষণ না আইনি জট খুলছে, ততক্ষণ বীরভূমের ওই শ্রমিক পরিবারগুলির দেশে ফেরা রয়ে গেল অন্ধকারেই।




