কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর :
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রার্থী, মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল চন্দ্রপুরম পন্নুস্বামী রাধাকৃষ্ণন মঙ্গলবার ভারতের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লোকসভা ও রাজ্যসভার মোট ৭৬৭ সাংসদ ভোট দেন। এর মধ্যে ৪৫২ ভোট পান রাধাকৃষ্ণন, আর বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডি পান ৩০০ ভোট। ১৫টি ভোট অকার্যকর ঘোষণা হয়।
ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে সাংসদদের বড় অংশ রাধাকৃষ্ণনের পক্ষে মত দিয়েছে। ভোটগ্রহণে উপস্থিতি ছিল ৯৮.২ শতাংশ।
-
৭৬৭ সাংসদ ভোট দেন।
-
বৈধ ভোট ছিল ৭৫২।
-
১৫ ভোট অকার্যকর হয়।
-
১৪ জন সাংসদ ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।
৬৭ বছর বয়সি রাধাকৃষ্ণনকে সহকর্মীরা সবসময় নরম স্বভাবের এবং সংঘাত এড়িয়ে চলা নেতা হিসেবেই জানেন। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পটভূমি থেকে উঠে আসা তিনি তৃতীয় তামিল নেতা, যিনি দেশের উপরাষ্ট্রপতির আসনে বসলেন।
ভক্তরা তাঁকে ডাকেন ‘পাচাই তামিঝান’ বা ‘খাঁটি তামিল’ বলে।
গত ২১ জুলাই আচমকাই পদত্যাগ করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। এরপরই উচ্চপদে শূন্যতা তৈরি হয়। সেই পদে এবার বসলেন রাধাকৃষ্ণন।
জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স–এ লিখেছেন,
“সি.পি. রাধাকৃষ্ণন জিকে অভিনন্দন জানাই। তাঁর জীবন সবসময় সমাজসেবা ও গরিব-অবহেলিতদের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত। আমি নিশ্চিত, তিনি অসাধারণ উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবেন এবং সংসদীয় আলোচনার মান বাড়াবেন।”
ভোটগ্রহণের শুরুতে প্রথম ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর একে একে ভোট দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, ক্রীড়া মন্ত্রী কিরণ রিজিজু-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির থেকেও উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
হেরে গেলেও ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডি এনডিএ প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ফল আমার বিপক্ষে গেলেও, সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই আরও জোরদার করব।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “এই নির্বাচন শুধুই একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং ছিল এক মতাদর্শের লড়াই। আমরা আশা করি নতুন উপরাষ্ট্রপতি সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন এবং বিরোধীদের যথাযথ সম্মান দেবেন।”
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ মন্তব্য করেন, “বিজেপি সংখ্যার জোরে জিতলেও, এটি আসলে নৈতিক ও রাজনৈতিক পরাজয়। মতাদর্শের লড়াই চলবে।”
প্রায় দেড় মাসের অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্পষ্ট হলো দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কার নাম লেখা হবে। সংখ্যার লড়াইয়ে সহজ জয় পেলেও, রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক টানাপোড়েন যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট করে দিল মঙ্গলবারের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন।




