কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১০ সেপ্টেম্বর :
ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যে নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার তিনি এক সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন—“ভারত এবং আমেরিকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রাকৃতিক অংশীদার।” তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করছে উভয় পক্ষ। এই আলোচনার মাধ্যমেই ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের “অসীম সম্ভাবনার দ্বার” খুলে যাবে বলে আশাবাদী মোদি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উষ্ণ বার্তার জবাবে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছিলেন,
“শীঘ্রই মোদিজির সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। আমি নিশ্চিত, আমাদের দুই মহান দেশের জন্যই ইতিবাচক সমাধান আসবে।”
এই বক্তব্যের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মোদি তাঁর উত্তর দেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে দুই দেশের সম্পর্ক একেবারেই মসৃণ নয়।
-
আমেরিকার তরফে ভারতীয় আমদানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে, বিশেষত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনাকে ঘিরে।
-
ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি ভারতকে “ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রির কেন্দ্র” বলেও কটাক্ষ করেছেন।
-
ইউক্রেন যুদ্ধকেও তারা “মোদির যুদ্ধ” আখ্যা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ট্রাম্প কয়েকদিন আগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমেরিকা ভারতকে হারিয়েছে অন্ধকারাচ্ছন্ন চীনের কাছে।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে মোদি, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের একত্র ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই এই প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প।
কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই তাঁর সুর বদলায়। ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে তিনি “বিশেষ” বলে উল্লেখ করেন এবং মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন।
মোদি এদিন স্পষ্ট করে জানান, তিনি ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তাকে “কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে” গ্রহণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন—
“আমরা একসঙ্গে কাজ করব উভয় দেশের মানুষের জন্য আরও উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন দ্বিমুখী পথে দাঁড়িয়ে। একদিকে শুল্ক ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের পারস্পরিক সৌহার্দ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের স্বার্থ জড়িত বিশাল বাণিজ্য বাজার ও কৌশলগত সম্পর্ককে অগ্রাহ্য করে কেউই দূরে সরে যেতে পারবে না।




