কলকাতা টাইমস নিউজ :আন্তর্জাতিক ডেস্ক :নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর :
নেপালের রাস্তায় যে জেন জেড প্রজন্ম গত ক’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ আন্দোলন গড়ে তুলেছে, সেই তারুণ্যের ঢেউ-ই এবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল। সূত্রের খবর, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি কেই এখন প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানোর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
COURTESY ANI – X :
মঙ্গলবার একটি অনলাইন বৈঠকে গোটা দেশের ৫,০০০–এরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল— নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাকে নেতৃত্বে আনা হবে। প্রথমদিকে আলোচনায় উঠে এসেছিল কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন শাহ–র নাম। কিন্তু তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া না মেলায় বৈঠকের দিশা ঘুরে যায় অন্যদিকে। শেষমেশ সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান সুশীলা কার্কি।
এক জেন জেড প্রতিনিধি নেপালি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ওঁকে আগেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন অন্তত ১,০০০টি লিখিত সমর্থনপত্র পেলে রাজি হবেন। ইতিমধ্যে ২,৫০০–এরও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে।”
শুধু কার্কিই নন, বৈঠকে আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নামও উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
-
কুলমান ঘিসিং (নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির প্রধান)
-
সাগর ধাকাল (তরুণ রাজনৈতিক নেতা)
-
হার্কা সাম্পাং (ধরন শহরের মেয়র)
-
র্যান্ডম নেপালি নামে জনপ্রিয় এক ইউটিউবার, যিনি বলেছেন— অন্য কেউ রাজি না হলে তিনিই দায়িত্ব নেবেন।
বর্তমানে বয়স ৭২ হলেও নেপালের ইতিহাসে এক অনন্য দাগ কেটে গেছেন সুশীলা কার্কি। ২০১৬ সালে তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি। তাঁকে সেই সময় সংবিধান পরিষদের সুপারিশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি নিয়োগ করেছিলেন।
-
কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা দিয়ে।
-
পরে যোগ দেন বিচারব্যবস্থায়, এবং ধীরে ধীরে নিজের নির্ভীকতা, দক্ষতা ও সততার জন্য খ্যাতি পান।
-
২০০৬ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন।
-
২০০৯ সালে তাঁকে অ্যাড-হক সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়, এক বছর পরে স্থায়ী হন।
-
২০১৬ সালে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর পরেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতি করা হয়।
রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে উঠে আসা এই প্রক্রিয়া নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত দেশটিতে এবার কি এক প্রবীণ কিন্তু নির্ভীক প্রাক্তন বিচারপতির হাতেই উঠবে নেতৃত্বের ভার ?




