কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর :
ভারতের সংবিধানের শক্তি ও স্থায়িত্বের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতার তুলনা টেনে ফের গর্ব প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। নেপাল ও বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) বি.আর. গাভাই বুধবার মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের সংবিধান নিয়ে গর্বিত। প্রতিবেশী দেশগুলিতে কী হচ্ছে, একবার তাকিয়ে দেখুন।”
এদিন একটি রাষ্ট্রপতি রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছিল সংবিধান বেঞ্চে। মূল প্রশ্ন ছিল— রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া বিল নিয়ে রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আদালত কি সেই সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে? সেই প্রসঙ্গেই সংবিধান বেঞ্চ ভারতীয় গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার উদাহরণ তুলে ধরতে নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে।
বেঞ্চে উপস্থিত বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, “এবং বাংলাদেশ।” অর্থাৎ ভারতীয় সংবিধানের স্থায়িত্বকে বোঝাতে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নেপালে প্রবল ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি। কাঠমান্ডু জুড়ে সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির দফতর, সুপ্রিম কোর্ট সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো হয়। একাধিক শীর্ষ নেতার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সরকারি হিসাবে, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলা বিক্ষোভে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সেনা কারফিউ জারি করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, নেপালে মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে হবে। নিহতদের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বেঞ্চে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও টানা হয়। গত বছর ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে আদালত ভারতের সঙ্গে তুলনা করে।
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ এমন শিক্ষা দিয়েছিল যে শুধু দল নয়, তিনি নিজেও হারলেন নিজের আসন। পরের সরকারও টিকতে পারেনি, মানুষ আবার তাঁকেই ফিরিয়ে আনল।”
এ কথার জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “…প্রচণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে।” মেহতা তাতে সায় দিয়ে যোগ করেন, “হ্যাঁ, এটাই সংবিধানের শক্তি। এটি কোনও রাজনৈতিক যুক্তি নয়।”
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিল— ভারতের গণতন্ত্র ও সংবিধান বহির্বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী। প্রতিবেশী দেশগুলির রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের কাছে শিক্ষা হিসেবে থাকলেও, দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংবিধানের ক্ষমতাই ভারতের প্রকৃত শক্তি।




