কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :পানিট্যাঙ্কি (দার্জিলিং) , ১২ সেপ্টেম্বর :
সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বাড়তি সতর্কতা। নেপালে চলতে থাকা অশান্তির জেরে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এবার সরাসরি ক্যাম্প খাটিয়ে তল্লাশি শুরু করল রাজ্য পুলিশ ও এসএসবি। মেচি নদীর পুরোনো সেতুর মুখে বসানো হয়েছে দু’টি শিবির। সেখানেই নথিপত্র পরীক্ষা, নাম নথিভুক্তকরণ, তারপরেই সীমান্ত পারাপারের অনুমতি।
বুধবার পর্যন্ত যেখানে ছিল শিথিলতা, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সকাল থেকেই পুরনো সেতুর মুখে দেখা যায় লম্বা লাইন। শুধু জওয়ান নয়, নজরদারিতে নামানো হয়েছে এসএসবির বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর মেটিকেও। সাধারণত দিনে ছ’ঘণ্টা ডিউটি থাকলেও এখন প্রায় সারাদিনই কাজ করছে সে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক মানুষ সীমান্ত পার হন, পাশাপাশি জরুরি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার ও ট্রাকও প্রবেশ করে।
এইমুহূর্তে নেপালের সমগ্র পরিস্তিথি এক নজরে এখন :
-
নেপালে চলতি জেন-জ়ি আন্দোলন কার্যত ভেঙে দিয়েছে প্রশাসনিক কাঠামো।
-
সেদেশের বিভিন্ন জেল ভেঙে ১৪ হাজারের বেশি বন্দি পালিয়েছে বলে খবর।
-
তাদের মধ্যে ইন্টারপোলের চিহ্নিত কুখ্যাত অপরাধীও রয়েছে।
-
গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এদের অনেকেই ভারতে পালানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে থেকেই নেপালকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিভিন্ন ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়েছে। আইসি–৮১৪ বিমান অপহরণ থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের ইয়াসিন ভাটকলের গ্রেপ্তারি—সব ক্ষেত্রেই নেপালের মাটি ব্যবহার হয়েছে। ফলে এবার অশান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।
যদিও ইতিমধ্যেই প্রায় ১,৫০০ বন্দি ফের ধরা পড়েছে, তবে অনেকেই সীমান্তে পালাচ্ছে। শুধু গত কয়েক দিনে এসএসবি আটক করেছে ৬১ জন পালানো বন্দিকে—এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত থেকে ৩ জন, বিহারের সীমান্ত থেকে ১৫ জন এবং উত্তরপ্রদেশের রক্সৌল থেকে ২২ জন।
অন্যদিকে পানিট্যাঙ্কির টোটোচালক বিপুল সিংহ বলেন, “আজকাল শুধু পরিচয়পত্র দেখলেই হচ্ছে না, শিবিরে দাঁড় করিয়ে রীতিমতো তল্লাশি চলছে। সবকিছু খুঁটিয়ে দেখে তবেই পারাপার করা হচ্ছে।”
পাশাপাশি কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা মেঘনাদ ডাকা সম্প্রতি আত্মীয়বিয়োগের খবরে নেপালের ঝাপা জেলায় গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সস্ত্রীক ফেরার পথে তাঁর অভিজ্ঞতা—“চোখের সামনে সরকারি দপ্তরে হামলা, দোকান লুট, আগুন লাগানো সব দেখেছি। কাফ্ফু না থাকলে সীমান্তে পৌঁছনোই মুশকিল হত।”
অপরদিকে দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ জানান, “এ পারে এখনও সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে অযাচিত কেউ প্রবেশ করতে না পারে।”
একইসাথে বিকেলে সীমান্তে পৌঁছে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল পরিদর্শন করেন দুই ক্যাম্প। এসএসবি কম্যান্ড্যান্ট দুর্গেশ সিংয়ের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন নজরদারি ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
অপরদিকে এ বিষয় এসএসবি আধিকারিকদের বক্তব্য “সীমান্তে নজরদারি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। তবে বর্তমানে নেপালের সাধারণ নাগরিকদের আসা-যাওয়া আগের তুলনায় কম।”




