কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :ছত্তীসগঢ় , ১২ সেপ্টেম্বর :
ছত্তীসগড়ের গড়িয়াবন্দ জেলার মইনপুর জঙ্গলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া গুলির লড়াইয়ে নিহত হলেন মাওবাদী নেতা মনোজ ওরফে মোডেম বালাকৃষ্ণ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের খাতায় তাঁর নাম বহুদিন ধরেই ছিল শীর্ষ তালিকায়। মাথার দাম এক কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছিল তাঁর উপর। শুধু মনোজ নন, নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে আরও ন’জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মইনপুর জঙ্গলে মাওবাদীরা নতুন ঘাঁটি গেড়েছে। তার পরই তল্লাশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে অংশ নেয় সিআরপিএফের বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘কোবরা’ এবং ছত্তীসগড় পুলিশের বিশেষ দল। ভোরের পর থেকেই শুরু হয় গুলির লড়াই। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহতদের মধ্যে একাধিক সিনিয়র মাওবাদী নেতা রয়েছেন।
একইসাথে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত ছিল। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং এলাকায় আরও মাওবাদী ঘাঁটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো অভিযানের কাজ শেষ হওয়ার পরই নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
বস্তুত, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। সেই উদ্দেশ্যে ছত্তীসগড়-সহ একাধিক রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি এই রাজ্যের মাওবাদী উপদ্রুত অঞ্চলে আধাসেনার আরও ৩০টি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি হয়েছে। জঙ্গলযুদ্ধে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘কোবরা’ বাহিনীকে কৌশলগতভাবে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
ছত্তীসগড় পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩০ জনের বেশি মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বস্তার অঞ্চলেই নিহত হয়েছেন ২০৯ জন। বস্তার-সহ বিজাপুর, কাঙ্কের, সুকমা, দান্তেওয়াড়া— সর্বত্রই যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, মনোজের মৃত্যু মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছত্তীসগড় এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে একাধিক হামলার ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই অভিযানে মাওবাদীদের সংগঠিত শক্তি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে।




