কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১২ সেপ্টেম্বর :
দুপুরবেলা ব্যস্ত সময়ে রক্তাক্ত ঘটনায় কেঁপে উঠল দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ মেট্রো স্টেশনের বাইরে বেরোনোর মুখেই শুরু হয় বচসা। তা মুহূর্তে হাতাহাতিতে গড়ায়। আর সেই সংঘর্ষের মধ্যেই এক ছাত্রকে সহপাঠী ছুরি দিয়ে কোপায় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বরাহনগর স্টেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নাবালকটির।
চোখের সামনে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন উপস্থিত যাত্রীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “ছেলেগুলো মেট্রো করে দক্ষিণেশ্বর পৌঁছয়। বেরোনোর আগে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। তর্ক থেকে ধাক্কাধাক্কি, তারপর আচমকাই একজন ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে রক্ত ছিটকে পড়ে চারপাশে।”
ঘটনার খবর পেয়েই দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। স্টেশন চত্বর ঘিরে ফেলা হয়েছে, চলছে ফরেনসিক পরীক্ষা। ঠিক কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্টেশনের একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখান থেকেই হামলাকারী ও তার সঙ্গীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ‘নন-টিকিটিং’ এলাকায় রক্তের দাগ লক্ষ্য করেই কর্তব্যরত কর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। তবে কলকাতা মেট্রোর দীর্ঘ ইতিহাসে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন প্রবীণ কর্মীরা।
এ ঘটনায় স্বভাবতই আতঙ্কিত যাত্রীরা। উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও। কীভাবে ব্যাগে ছুরি নিয়ে মেট্রো স্টেশনে ঢুকল অভিযুক্তরা? যাত্রীদের দাবি, ব্যাগ স্ক্যানিং সিস্টেমে ঘাটতি থাকলে তা অবিলম্বে মেটানো উচিত। এক নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনে দুপুরে এভাবে খুন! এত নিরাপত্তা কর্মী, স্ক্যানার থাকার পরেও যদি অস্ত্র নিয়ে ঢোকা যায়, তবে আমরা কতটা সুরক্ষিত?”
এটি প্রথম নয়। মাস খানেক আগে ধর্মতলা ও পার্ক স্ট্রিটের মধ্যে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে এক যুবকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তখনও প্রশ্ন উঠেছিল নজরদারি নিয়ে। আর এবার জনবহুল স্টেশনেই খুনের অভিযোগে ফের কাঁপল মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।




