spot_img
19 C
Kolkata
Wednesday, January 14, 2026
spot_img

পশ্চিম সিকিমে ভয়াবহ ধস: রিম্বির ইয়াংথাঙে মৃত ৪,চলছে উদ্ধারকাজ  !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১২ সেপ্টেম্বর  :

 

শ্চিম সিকিমের রিম্বি এলাকার ইয়াংথাঙে গভীর রাতে ধস নামল ভয়াবহ আকারে। মাটি ও পাথরের স্রোতে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত চারজনের। আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকায় নামানো হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং এসএসবি জওয়ানদের দল। স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় চলছে উদ্ধারকাজ।

গেজিংয়ের পুলিশ সুপার শেরিং সেরপা জানিয়েছেন, ধস নামার পর ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করা দুইজনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মৃত্যু হয়েছে। অন্য একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধসের খবর পাওয়া মাত্রই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। স্থানীয়দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাঁচজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না। সেই আশঙ্কায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে তল্লাশি। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে মাটি সরানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরা হাত দিয়েও খোঁজ চালাচ্ছেন।

শুধু সিকিম নয়, বর্ষার শুরু থেকেই উত্তর ও পশ্চিম ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ধস এবং বন্যা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় দিন দিন ধসের খবর সামনে আসছে। বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও সেতু।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পেছনে পাহাড়ে লাগামহীন নির্মাণকাজ ও পরিবেশ ধ্বংসকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রাজ্যকে সতর্ক করে জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় নির্বিচারে নির্মাণ বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হবে। ইতিমধ্যেই আদালত বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস ও বন্যার আশঙ্কা আরও প্রবল। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন করা হয়েছে। নদীর ধার, পাহাড়ি ঢাল বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হচ্ছে।

ধসের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক পরিবার রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে। অনেকে আবার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ভোরে হঠাৎই তুমুল শব্দ শুনতে পাই। পাহাড় থেকে মাটি নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সবকিছু মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks