spot_img
28 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যের কার্ড-রেশন কার্ড মান্যতা পাবে না, জানাল নির্বাচন কমিশন !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :নয়াদিল্লি  , ১২ সেপ্টেম্বর  :

গামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিল কমিশন। প্রস্তাব ছিল— রেশন কার্ড ও স্বাস্থ্যের সাথী কার্ডকে ভোটার পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নথি হিসেবে গ্রহণ করার। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সর্বত্র একই নিয়ম কার্যকর হবে এবং ইতিমধ্যেই অনুমোদিত ১২টি নথিই শুধু গ্রহণযোগ্য।

রাজ্য প্রশাসনের দাবি ছিল, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প এবং এই কার্ড তৈরি করতে প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়। তাই এটিকে নাগরিক পরিচয়ের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। একইভাবে, রেশন কার্ডও বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এ ধরনের নথি দেশের সর্বত্র অভিন্নভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই কেবলমাত্র ইতিপূর্বে অনুমোদিত ১২টি নথি—যার মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে আধার কার্ড—সেগুলিই ভোটার তালিকা সংশোধনে মান্য হবে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, “এটা আসলে ‘মামাবাড়ির আদর’—অযৌক্তিক দাবি।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করতেই রেশন কার্ড ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে ভোটার প্রমাণ হিসেবে মান্যতা দিতে চাইছিল। তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে মানুষ সঠিক চিকিৎসাই পাচ্ছেন না, ওটা আবার নাগরিকত্বের প্রমাণ হবে কী করে? এই দাবি ভিত্তিহীন।”

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা তৈরির সময়ে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা-র সঙ্গে নাম মেলানো হবে। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ভোটারের নাম, তাঁদের বিধানসভা কেন্দ্র, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর সতর্কতার সঙ্গে নথিভুক্ত করতে। যদি কোনও ভোটারের নাম না থাকে, কিন্তু তাঁর বাবা-মায়ের নাম থাকে ২০০২ সালের তালিকায়, সেক্ষেত্রেও সেই তথ্য রেকর্ড করতে হবে।

রাজ্যের সব জেলার আধিকারিকদের এই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন রিপোর্ট আপলোড করতে হবে সিইও (CEO) পোর্টালে। সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর জেলায় জেলায় গিয়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এর পরে ২০ সেপ্টেম্বর কমিশন সামগ্রিক পর্যালোচনা বৈঠক করবে। পাশাপাশি, সমস্ত BLO-দের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ-সহ তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন। কমিশনের নির্দেশ, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। পুজোর পরে অক্টোবরেই শুরু হবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks