কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১২ সেপ্টেম্বর :
দুর্গাপুজোর আবহ ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। শহরের আকাশে ভেসে উঠছে উৎসবের উচ্ছ্বাস। তবে সেই সঙ্গে বাড়ছে যান চলাচলের চাপ। এ বার সেই ভিড় সামাল দিতে আগেভাগেই মহালয়া থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত বিশেষ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞপ্তি জারি করল কলকাতা পুলিশ।

দুর্গাউৎসভের প্রারম্ভে মহালয়ার দিনের কলকাতার রাস্তায় কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশিকা :
২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। সকাল ৪টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
-
স্ট্র্যান্ড রোড থেকে সেন্ট জর্জেস গেট রোড পর্যন্ত কোনও ট্রাক বা লরি ঢুকতে পারবে না।
-
রাজা উডমান্ট স্ট্রিট থেকে হেস্টিংস ক্রসিং পর্যন্তও একই নিয়ম কার্যকর হবে।
এ ছাড়া বড়বাজার, গিরিশ পার্ক, মানিকতলা ক্রসিং-এর মতো ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বন্ধ থাকবে অকল্যান্ড রোড, কিংসওয়ে-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথ।
পাশাপাশি তৃতীয়া থেকে নবমী দুর্গাপুজোর মূল উৎসব শুরু হতেই আরও কড়া হবে নিয়ম।
-
তৃতীয়া: সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ।
-
চতুর্থী: সকাল ৬টা থেকে রাত ২টো পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে।
-
পঞ্চমী থেকে সপ্তমী: সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত কড়াকড়ি জারি থাকবে।
-
অষ্টমী: সকাল ৭টা থেকে শুরু কড়া নিয়ন্ত্রণ।
-
নবমী: সকাল ৮টা থেকে টানা রাত ৪টা পর্যন্ত রাস্তায় প্রবেশ বন্ধ থাকবে পণ্যবাহী যানবাহনের।
বিশেষ করে হাজরা রোড, নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট, সদানন্দ রোড ও কালীঘাট রোড দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে। উত্তর কলকাতার একাধিক রাস্তা একই নিয়মে নিয়ন্ত্রিত হবে।
সর্বোপরি বিসর্জন ও কার্নিভ্যাল
দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হবে ৩ অক্টোবর থেকে, চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
এরপর ৭ ও ৮ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজোর বিসর্জন উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাস্তায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
বিকল্প রুট ও বাস-ট্রাম পরিষেবা
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র গাড়িই নয়, পথচারীদের জন্যও বিশেষ পথ নির্ধারণ করা হবে। কিছু এলাকায় বাস ও ট্রাম চলাচল বন্ধ রাখা বা বিকল্প পথে চালানো হতে পারে।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন—“শহরবাসীর নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন উৎসবের জন্যই এই পদক্ষেপ। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজো নির্বিঘ্নে কাটাতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত।”
এক কথায় , উৎসবের আনন্দে ভাসতে গেলেও এবার শহরবাসীকে মাথায় রাখতে হবে পুলিশের নির্দেশিকা।




