কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১২ সেপ্টেম্বর :
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের দেহ। অনামিকার বাড়ি নিমতায়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন—প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা অনেকটাই কম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “রাতেই আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। ছাত্রীকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়েছিল। আমরা সবাই হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম।”
অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন, ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠান থাকলেও অত রাত পর্যন্ত চলার অনুমতি ছিল না। “অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান এগোয়। তবে ঠিক কতটা রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলেছিল, এখনও জানি না। ঘটনাটি চলাকালীন অনুষ্ঠান হচ্ছিল কি না, তাও নিশ্চিত নই।”
অমিতাভ দত্ত আরও জানান, “ক্যাম্পাস বিশাল। বহু নিরাপত্তারক্ষী অবসর নিয়েছেন। ফলে এখন কর্মীসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। পেট্রলিং টিম হয়তো ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সেই সময়ে ছিল না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ করা হবে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে—যে পুকুরে ছাত্রীটির দেহ পাওয়া গিয়েছে, তার চারপাশে কোনও সিসি ক্যামেরা কেন নেই? চার নম্বর গেটের সামনে তিনটি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলি ওই পুকুরমুখী নয়।
যাদবপুর থানার পুলিশ আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। কোনও বহিরাগতকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পুকুরে কীভাবে অনামিকা পড়লেন, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং ফরেনসিক রিপোর্টের উপর নির্ভর করতে হবে।
শুক্রবার সকালে অনামিকার বাবা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গত কয়েক বছরে যাদবপুরে একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্য। ছাত্র নিখোঁজ থেকে আত্মহত্যা—প্রতিবারই নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুতেও ফের সেই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে।




