spot_img
21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
spot_img

জেলায় জেলায় শুরু বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন, ডেডলাইন ২০ সেপ্টেম্বর — স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে কমিশনের বড় পদক্ষেপ !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১৩ সেপ্টেম্বর  :

ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের পথে বড় পদক্ষেপ — ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), জেলায় জেলায় শুরু উদ্যোগ

শ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা এবার আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে নেমে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ফের শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর কাজ। শেষবার এই কাজ হয়েছিল ২০০২ সালে। এবার কমিশনের নির্দেশ, ২০২৫ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে ২০০২ সালের পুরনো তালিকার সঙ্গে। এর মধ্য দিয়ে নামের পুনরাবৃত্তি, মৃত ব্যক্তির নাম বা তথ্যের গরমিল—সব কিছুরই সংশোধন সম্ভব হবে।

কমিশনের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকরা কাজে নেমে পড়েছেন। শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা মেলানোর কাজ। ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর। প্রতিটি জেলার বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ, যাতে কোনও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গাফিলতি না হয়।

গত মঙ্গলবার দেশের সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। সেখানেই বিস্তারিত আলোচনা হয় আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের সিইও দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়ে কাজের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে নতুন উদ্যোগ।

কী হবে এই SIR-এর মাধ্যমে – এক নজরে  :

  • ভোটারদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্রের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।

  • তালিকায় থাকা ভুল বানান, তথ্যের গরমিল বা ডুপ্লিকেট নাম চিহ্নিত করা হবে।

  • প্রয়োজনে নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে, পুরনো বা অবাঞ্ছিত নাম বাদ দেওয়া হবে।

কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ভোটার তালিকা হবে আরও ত্রুটিমুক্ত ও স্বচ্ছ, আর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা বাড়বে।

প্রসঙ্গত এই বিশেষ সংশোধনের মূল দায়িত্ব এখন বুথ লেভেল অফিসারদের উপর। প্রতিটি বুথ এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি ভোটারের তথ্য যাচাই করতে হবে তাঁদের। এজন্য প্রশাসন থেকে তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

যদিও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, আসন্ন সাধারণ ভোটের কথা মাথায় রেখেই কমিশন এবার আগেভাগে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, ভোটার তালিকার ভুলভ্রান্তি নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। আগে থেকে কাজ শুরু করলে নির্বাচন ঘোষণার সময় বড়সড় সমস্যা এড়ানো যাবে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, কমিশন এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটাই বার্তা দিতে চাইছে – “ভোটার তালিকা যত নির্ভুল হবে, নির্বাচন ততটাই নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে।”

এই কারণেই অনেকেই এটিকে আগামী নির্বাচনের আগে এক ধরনের “স্বচ্ছতার অনুশীলন” হিসেবে দেখছেন।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks