কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১৩সেপ্টেম্বর :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বাংলাদেশে। প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ইসলামী ছাত্র শিবির (আইসিএস) প্রায় ঝড় তুলে জয় ছিনিয়ে এনেছে। এই জয়কে শিবির “ঐতিহাসিক” বলে ঘোষণা করলেও, বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে—টাকা, ভয় দেখানো এবং বিদেশি হস্তক্ষেপই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে বেকক্ষা দেয় ।
অন্যদিকে ঢাকার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে প্রায় ২০ কোটি টাকা ঢেলেছে। ক্যাম্পেইন চালানো, ভোটার টানার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার থেকে শুরু করে সরাসরি ভোটার প্রলোভন—সবই চলেছে সেই অর্থে। সূত্রের দাবি, এই টাকা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর যোগসাজশে এসেছে। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন পাকিস্তানের জামায়াতই প্রথম বিদেশি সংগঠন হিসেবে শিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
অপরদিকে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, পুরো নির্বাচনী পরিবেশই ভয় আর আতঙ্কে ঢেকে গিয়েছিল। কার্যত “ প্রতি হলে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে ”—এমনই দাবি করেছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আবাসনে শিবিরপন্থী ছাত্রদের দাপট, শৃঙ্খলা রক্ষার নামে ভয় দেখানো, এমনকি অস্ত্র মজুতের অভিযোগও ওঠে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে দাবি করে , এগুলি কেবল গুজব।
প্রসঙ্গত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ছাত্র আন্দোলন রূপ পেয়েছে। সেখানে এবার শিবিরের দখল মানে শুধুই ছাত্র সংসদের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় এক প্রতীকী পালাবদল। বিশ্লেষকদের মতে, শিবিরের শক্ত সংগঠন, শৃঙ্খলা ও ঐক্যবদ্ধ কৌশলই বিভক্ত ছাত্রদলকে হার মানিয়েছে। দুর্বল প্রার্থী আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত ছাত্রদল এর মোকাবিলা করতে পারেনি।
একইসাথে শিবির নিজেদের “পরিষ্কার বিকল্প” হিসেবে তুলে ধরেছে। আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের শিকার—এই বয়ান তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে। ফলে প্রথমবারের ভোটারদের বড় অংশ শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে। তবে এই ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলি। অভিযোগ উঠেছে ভোট গণনায় অনিয়ম, এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজে পক্ষপাতিত্ব করেছেন—যিনি নাকি অতীতে শিবিরপন্থী ছিলেন।
যদিও প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র এই নির্বাচনে ভোট দেন। শিবিরের ভোট ছাত্রদলের দ্বিগুণ ছিল বলে দাবি। তবে বিভাজনও চোখে পড়েছে—বিশেষত জগন্নাথ হলে, যেখানে সংখ্যালঘু ছাত্ররা থাকেন। সেখানে শিবিরের প্রার্থী মাত্র ১০টি ভোট পান, অন্যদিকে ছাত্রদলের প্রার্থী পান ১,২৭৬ ভোট।
এমত অবস্তায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আশঙ্কা করছে, এই জয় কেবল ক্যাম্পাস-স্তরের নয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের পতন আর বিএনপি-র দুর্বল অবস্থায় এই জয় জামায়াত-শিবিরের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্থানের ইঙ্গিত হতে পারে। ছাত্র রাজনীতিকে পাথেয় করে আবারও মূলধারায় ফেরার পথ খুঁজছে তারা।
এই ঘটনায় স্পষ্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভোট এবার শুধু ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণকেও নাড়া দিয়েছে।




