কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১৩ সেপ্টেম্বর :
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আগে শহরবাসীর জন্য সুখবর শোনাল কলকাতা মেট্রো। এবারে একসঙ্গে ব্লু, ইয়েলো, গ্রিন ও পার্পল—চারটি লাইনে মেট্রো চালু থাকবে। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানেও এগিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষত ব্লু লাইনের কবি সুভাষ স্টেশনে রেক রিভার্সালের জটিলতা এবার কাটতে চলেছে। ফলে উৎসবের দিনগুলোয় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে শহরের ‘লাইফলাইন’।
প্রসঙ্গত ব্লু লাইনের দক্ষিণ প্রান্তে কবি সুভাষ স্টেশনেই এতদিন বড় সমস্যা হচ্ছিল। প্রতিটি রেক ঘোরাতে (রিভার্সাল) গড়ে প্রায় ৮ মিনিট অতিরিক্ত সময় লেগে যাচ্ছিল। এর ফলে ডাউন লাইনে ট্রেন দেরিতে আসছিল, আবার আপ লাইনে ট্রেনের মাঝে অস্বাভাবিক ব্যবধান তৈরি হচ্ছিল। যাত্রীদের জন্য এটি বড় অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বিশেষ করে অফিস টাইমে।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মেট্রো রেল নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি দুটি ট্রেন চলার পর একটি খালি রেক মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) স্টেশনে যাত্রী নামিয়ে সেখানেই রিভার্সাল করা হবে। এর ফলে কবি সুভাষে চাপ কমবে এবং ট্রেন পরিষেবা আরও নিয়মিত হবে।
মেট্রো তরফে জানানো হয় , প্রতিদিনের ১৩৬টি ডাউন ট্রেনের মধ্যে ৩২টি টালিগঞ্জ পর্যন্ত চালিয়ে রিভার্স করা হবে। এতে পিক আওয়ারে ৫ মিনিট অন্তর এবং অফ-পিক সময়ে ৭ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ২৭২টি ট্রেন (আপ ও ডাউন মিলিয়ে) চলবে। যাত্রীদের ভিড় সামলাতে এটি কার্যকর হবে বলেই আশা কর্তৃপক্ষের।
অন্যদিকে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই টালিগঞ্জের পুরনো কারশেড ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেখানে কাজ শুরু হবে। মেট্রোর মতে, এই পদক্ষেপে শুধু ব্লু লাইন নয়, পুরো নেটওয়ার্কের উপরেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অপরদিকে শুক্রবারের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুর্গাপুজোর সময় ব্লু, ইয়েলো, গ্রিন ও পার্পল—চারটি লাইনে মেট্রো পরিষেবা একসঙ্গে চালু থাকবে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ প্যান্ডেল ভ্রমণে মেট্রোর উপর নির্ভর করেন। তাই বিস্তারিত সময়সূচি ও ট্রেন সংখ্যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
দুর্গাপুজোয় শহরের প্রতিটি কোণায় ভিড় অবধারিত। উত্তর থেকে দক্ষিণ, হাওড়া থেকে গড়িয়াহাট—মেট্রো ছাড়া বিকল্প নেই বললেই চলে। অনেক যাত্রীর আশা, এবারে আর আগের মতো বাঞ্চিং বা দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হবে না। এক কথায়, কলকাতা মেট্রোর এই উদ্যোগকে অনেকে বলছেন—“পুজোর সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।”




