কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১৩সেপ্টেম্বর :
দেশের রেল পরিষেবায় নতুন ইতিহাস রচনার পথে। দিল্লি-মীরাট করিডরের নতুন ‘নমো ভারত’ ট্রেন এখন ভারতের দ্রুততম। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা এই ট্রেন ইতিমধ্যেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে পিছনে ফেলেছে। এতদিন বন্দে ভারতকেই দেশের দ্রুততম ট্রেনের স্বীকৃতি দেওয়া হতো। কিন্তু রেল মন্ত্রকের সিদ্ধান্তে বন্দে ভারতের গতি সীমিত করে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার করা হয়েছে। এর ফলে ‘নমো ভারত’ পেয়েছে দেশের দ্রুততম ট্রেনের খেতাব।
আপাতত দিল্লির পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তরপ্রদেশের মীরাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরত্বে ছুটছে এই ট্রেন। ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NCRTC)-এর তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই পুরো ৮২.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডর চালু হবে। দিল্লির সরাই কালে খান থেকে মীরাটের মোদীপুরম পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডর চালু হলে যাত্রীরা এক ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছে যাবেন রাজধানী থেকে মীরাটে। বর্তমানে এই রুটে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ যাতায়াত করেন।
‘নমো ভারত’ ট্রেনগুলিকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করতে ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি। প্রতিটি ট্রেনে রয়েছে অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন (ATP), অটোমেটিক ট্রেন কন্ট্রোল (ATC) এবং অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন (ATO) ব্যবস্থা। হায়দরাবাদে ডিজ়াইন করা এবং গুজরাটের সাভলির অ্যালস্টম কারখানায় তৈরি এই ট্রেনগুলির নকশা যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিটি ট্রেনে থাকছে ছয়টি কামরা। ১৫ মিনিট অন্তর চলবে এই ট্রেন, যা দিল্লি থেকে মীরাট পর্যন্ত মোট ১১টি স্টেশনে থামবে। NCRTC জানিয়েছে, করিডর চালু হলে যাত্রীসুবিধার কথা মাথায় রেখে আরও বেশ কিছু স্টপেজ যুক্ত করা হবে।
ভারত সরকার (৫০ শতাংশ) এবং দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থান সরকারের (প্রত্যেকের ১২.৫ শতাংশ) যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে NCRTC। এর মাধ্যমেই ভারতের প্রথম আঞ্চলিক র্যাপিড ট্রানজ়িট সিস্টেম (RRTS) তৈরি হচ্ছে, যা দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মীরাট করিডরের মাধ্যমে শুরু হলো।
‘নমো ভারত’-এর পরিকাঠামো ব্যবহার করেই গড়ে তোলা হচ্ছে মীরাট মেট্রো পরিষেবা। এই রুটে ২৩ কিলোমিটার জুড়ে তৈরি হবে ১৩টি মেট্রো স্টেশন। যাত্রীরা সহজেই এক রুট থেকে অন্য রুটে উঠতে পারবেন। এর ফলে মীরাটবাসীর যাতায়াতে আমূল বদল আসবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট এবং অনিশ্চিত যাত্রার ভোগান্তি পোহাতে হয় দিল্লি-মীরাট রুটের যাত্রীদের। সেই জায়গায় মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘নমো ভারত’ ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। দ্রুত, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ এবার হাতের মুঠোয়।




