কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / কাঠমান্ডু , ১৩সেপ্টেম্বর :
নেপালের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শুক্রবার। দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুসিলা কার্কি শপথ নিলেন নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এ পদে তিনিই প্রথম মহিলা। কে.পি. শর্মা অলির পদত্যাগের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার আবহে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ নতুন আশা জাগিয়েছে।
ক’সপ্তাহ ধরে নেপালের রাস্তায় দানা বেঁধেছিল প্রবল ক্ষোভ। বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেন-জি আন্দোলন, আন্দোলনের ঢেউ তুলেছিল রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে। সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫১ জন, আহত দেড় হাজারেরও বেশি। সেই তীব্র চাপেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি।
অবশেষে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল ও আন্দোলনরত তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে টানা বৈঠকের পর সমঝোতা হয়। নিরপেক্ষ নেতৃত্বের দাবিতেই উঠে আসে সুসিলা কার্কির নাম।
৭৩ বছর বয়সি কার্কিকে রাষ্ট্রপতি পাউডেল শপথবাক্য পাঠ করান শীতল নিবাসে, রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে। উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক মহলের তাবড় নেতারা। এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মন্তব্য করেন, “কার্কির শপথ কেবল এক অন্তর্বর্তী সরকারের সূচনা নয়, বরং বিশৃঙ্খলার মাঝেও স্থিতিশীলতার পথে পদক্ষেপ।”
অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে প্রথমদিকে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছিল—কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন প্রধান কুলমান ঘিসিং, কিংবা ধরণ মিউনিসিপ্যালিটির মেয়র হার্কা রাজ সামপাং রাই। তবে সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের জন্যেই শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য গড়ে ওঠে কার্কিকে ঘিরে।
চুক্তি অনুযায়ী নেপালের সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। পরে কার্কিকে উচ্চকক্ষে মনোনীত করা হবে, তারপরেই তিনি সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর আসন গ্রহণ করবেন। আপাতত একটি ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারা থাকবেন সেই মন্ত্রিসভায়, তা এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে সুশীলা কার্কির সামনে আগামীতে যে সব কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তা হলো :
-
আন্দোলনরত তরুণদের ক্ষোভ প্রশমিত করা,
-
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা,
-
সহিংসতায় ক্ষতবিক্ষত দেশকে স্থিতিশীল পথে ফেরানো,
-
এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সামলানো।
প্রসঙ্গত বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন কার্কি। পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রী পদে বসে তিনি তৈরি করলেন এক নতুন ইতিহাস—একই সঙ্গে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি ও প্রথম মহিলা অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্দোলন সহিংসতায় ভর করেছিল, তবুও জেন-জি আন্দোলন নেপালের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে পেরেছে। এখন দেখার, কার্কির নিরপেক্ষ নেতৃত্ব কি এই ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজকে শান্ত করতে পারবে, নাকি অচিরেই নেপাল আবারও অস্থিরতার দিকে ধাবিত হবে।




