কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / আইজল , ১৩সেপ্টেম্বর :
ভারতের উত্তর-পূর্বে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। শনিবার মিজোরামের রাজধানী আইজলে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন রাজ্যের প্রথম রেলপথ প্রকল্প—বৈরাবি-সায়েরাং রেললাইন। ৮,০৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্প মিজোরামকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সংযোগের এই নতুন যাত্রা।
২০০৮-০৯ সালে প্রকল্পটির অনুমোদন হয় এবং ২০১৫ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। পাহাড়ি ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে এটিকে ভারতের রেল ইতিহাসের অন্যতম কঠিন প্রকল্প বলে মনে করা হচ্ছে। এই রুটে রয়েছে ৪৫টি সুড়ঙ্গ, ৫৫টি বড় সেতু এবং ৮৭টি ছোট সেতু। এর মধ্যে সায়েরাংয়ের কাছে ১৪৪ নম্বর সেতুটি বিশেষ নজরকাড়া—১১৪ মিটার উঁচু এই সেতু কুতুব মিনারের চেয়েও উঁচু এবং এটিই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে উঁচু পিয়ার রেলওয়ে ব্রিজ।
বৈরাবি থেকে সায়েরাং পর্যন্ত বিস্তৃত এই রুটে থাকছে চারটি প্রধান স্টেশন—হরটোকি, কাউনপুই, মুয়ালখাং এবং সায়েরাং। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে পাঁচটি রোড ওভারব্রিজ ও ছ’টি আন্ডারপাস। এর ফলে যাত্রী ও মালবাহী উভয় ক্ষেত্রেই যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
প্রধানমন্ত্রী দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রেলপথ চালু হলে মিজোরামের মানুষ পাবেন নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, খাদ্যশস্য, সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত পৌঁছে যাবে রাজ্যে, ফলে সার্বিকভাবে উন্নত হবে সরবরাহ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে খুলে যাবে পর্যটন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার নতুন দিগন্ত।
উদ্বোধনের দিনে প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে তিনটি নতুন ট্রেনেরও সূচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে সায়েরাং (আইজল)-দিল্লি রাজধানি এক্সপ্রেস, সায়েরাং-গৌহাটি এক্সপ্রেস এবং সায়েরাং-কলকাতা এক্সপ্রেস। এর ফলে সরাসরি রাজধানী দিল্লি ও মেট্রো শহর কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হলো মিজোরাম।
শুধু রেললাইন নয়, এদিন আরও একগুচ্ছ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
-
৪৫ কিমি আইজল বাইপাস রাস্তা—৫০০ কোটির বেশি মূল্যের এই রাস্তা চালু হলে যানজট কমবে এবং সংযোগ উন্নত হবে লুংলেই, সিয়াহা, লংতলাই, লেংপুই বিমানবন্দর ও সায়েরাং রেলস্টেশনের সঙ্গে।
-
থেনজাওল-সিয়ালসুক রাস্তা (NESIDS প্রকল্প)—ফল চাষি, ধানচাষি ও আদা প্রক্রিয়াজাতকারীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
-
খানকাউন-রংগুরা রাস্তা (সেরছিপ জেলা)—বাজারে পৌঁছনো সহজ হবে, পাশাপাশি আদা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার পরিকল্পনাতেও গতি আসবে।
-
ছিমতুইপুই সেতু (লংতলাই-সিয়াহা রোডে), খেলো ইন্ডিয়া ইনডোর হল, এবং এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট (মুয়ালখাং)।
এদিন প্রধানমন্ত্রী আরও উদ্বোধন করেন দুটি আবাসিক স্কুল—
-
প্রধানমন্ত্রী জন বিকাশ কর্মসূচি (PMJVK)-র অধীনে কাওর্থাহ-এ একটি স্কুল।
-
একলব্য মডেল রেসিডেনশিয়াল স্কুল—ট্লাংনুয়ামে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব ভুগছে। এই রেলপথ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো চালু হলে শুধু যাতায়াত ও পরিবহন নয়, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, খেলাধুলা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন শেষে মণিপুরের চুরাচাঁদপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।




