কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা , ১৩সেপ্টেম্বর :
দিল্লির আকাশে ফের আতঙ্কের ছায়া। এবার নিশানা তাজ প্যালেস হোটেল। শনিবার একটি হুমকি-ইমেল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজধানীতে। মেলে বার্তা—‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে হোটেল।’ মুহূর্তের মধ্যে তৎপর হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ। হোটেল চত্বর ঘিরে ফেলে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। মোতায়েন হয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। শুরু হয় টানা তল্লাশি।
সূত্রের খবর, তাজ প্যালেসে ভেতরে-বাইরে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা কর্মীরা। একের পর এক কক্ষ, লবি, পার্কিং জোনে চলছে খুঁটিনাটি তল্লাশি। পুলিশের বম্ব ডিটেকশন টিম ও অ্যান্টি-সাবোটাজ ইউনিটও নেমেছে কাজে। যদিও ইমেলের উৎস ও আসল বার্তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল ইমেলের আইপি ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এটাই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগেই দিল্লি হাইকোর্টে বোমা হুমকির ইমেল পৌঁছেছিল। আতঙ্কে বিচারক, আইনজীবী, কর্মচারীদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানি স্থগিত থাকে কয়েক ঘণ্টা। শেষমেশ তল্লাশিতে মেলেনি কোনও বিস্ফোরক, ভুয়ো হুমকি বলেই ঘোষণা করে পুলিশ।
সপ্তাহের শুরুতেও একই ছবি দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় ও মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে দমকল বাহিনী, বম্ব-ডিটেকশন টিম ও অ্যান্টি-সাবোটাজ ইউনিট তল্লাশি চালায়। যদিও আতঙ্কের মাঝেই শেষে ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয় বার্তাগুলি।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিজুড়ে ভয়ঙ্কর হারে বেড়েছে ভুয়ো বোমা-হুমকির ঘটনা। কখনও স্কুল, কখনও সরকারি প্রতিষ্ঠান, আবার কখনও জনবহুল জায়গায় পাঠানো হচ্ছে ভয় দেখানো ইমেল। দিল্লি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, ট্র্যাফিক পুলিশ এবং স্পেশ্যাল সেল সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই হুমকি ভুয়ো হলেও, আমরা প্রতিটি ঘটনাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখি। আতঙ্ক যাতে না ছড়ায়, সে দিকেও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।”
প্রতিটি ঘটনার শেষে আতঙ্ক মুছে গেলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কেন বারবার রাজধানীতে এমন হুমকি পাঠানো হচ্ছে? উদ্দেশ্য কি শুধুই ভয় সৃষ্টি করা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র? তদন্তে সেই উত্তরই এখন খুঁজছে দিল্লি পুলিশ।




