spot_img
25 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

শান্তি ও উন্নয়নের নতুন বার্তা: মণিপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদির অঙ্গীকার !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা /মণিপুর , ১৩সেপ্টেম্বর  :

দীর্ঘ দুই বছরের অশান্তির পর অবশেষে মণিপুর সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার কুকি অধ্যুষিত চুরাচাঁদপুরে জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি মণিপুরকে “শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক” হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা দিলেন। পাশাপাশি সশস্ত্র সংগঠন ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলিকে সহিংসতার পথ ছেড়ে মিলনের পথে আসার আবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুঃখজনক যে এই রাজ্যে সহিংসতা হয়েছে। কিন্তু আজ আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—ভারত সরকার আপনাদের পাশে আছে, আমিও আছি।” এই সফর ছিল ২০২৩ সালের অশান্তির পর তাঁর প্রথম মণিপুর যাত্রা।

মোদির সফরের আবেগঘন মুহূর্ত ছিল চুরাচাঁদপুরের ‘পিস গ্রাউন্ড’-এ বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ। শিশুদের হাতে তিনি পেলেন ফুলের তোড়া, একখানি চিত্রকর্ম ও ঐতিহ্যবাহী পালকের টুপি। প্রতীকী উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান, মণিপুর একটি নতুন ভোরের দিকে এগোচ্ছে।

২০২৩ সালের মে মাসে উপত্যকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং পাহাড়ের কুকিদের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষে ২৬০-রও বেশি মানুষের প্রাণ যায়, গৃহহারা হন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি।

শুধু শান্তি নয়, উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এক মঞ্চ থেকে তিনি প্রায় ₹৭,৩০০ কোটির প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে –

  • ₹৩,৬০০ কোটির মণিপুর আরবান রোডস, ড্রেনেজ ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প

  • পাঁচটি জাতীয় সড়ক প্রকল্প, যার মূল্য ₹২,৫০০ কোটিরও বেশি

  • মণিপুর ইনফোটেক ডেভেলপমেন্ট (MIND) প্রকল্প

  • নয়টি স্থানে কর্মরত মহিলাদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ

মোদির দাবি, এসব উদ্যোগ সরাসরি পাহাড়ি অঞ্চলের জনজাতি সম্প্রদায়ের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সাল থেকে তাঁর সরকার মণিপুরে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগে বরাদ্দ কয়েকগুণ বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি সব সংগঠন ও গোষ্ঠীকে অনুরোধ করব, সহিংসতা ছেড়ে শান্তির পথে আসুন। মণিপুরের প্রাণবন্ততা ভারতের এক মহান শক্তির প্রতিফলন।” তিনি মণিপুরবাসীর সাহস ও বীরত্বের কথাও স্মরণ করেন।

প্রসঙ্গত মোদি আরো জানান, ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলেছে, আর সেই উন্নয়নের ফল দেশের প্রতিটি কোণে পৌঁছতে হবে। “আমি চাই মণিপুরও সেই যাত্রার অংশীদার হোক,” বলেন তিনি।

তবে বাস্তব ছবিতে রয়ে গেছে জটিলতা। মেইতেইরা দাবি তুলেছে তফশিলি জনজাতির মর্যাদার, অন্যদিকে কুকি সম্প্রদায় আলাদা প্রশাসনের দাবি জানাচ্ছে। জমি ও সম্পদের বণ্টন নিয়ে এই বিরোধ এখনও পুরোপুরি মেটেনি।

পুরো সফর জুড়ে নিরাপত্তা ছিল টানটান। রাজ্যের সর্বত্র মোতায়েন ছিল বিশাল বাহিনী। প্রতীকী দিক থেকেও এই সফরের গুরুত্ব ছিল গভীর— সহিংসতার পর প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী না, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসে বার্তা দিলেন যে দিল্লি মণিপুরকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks