কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :শিমলা , ১৬ সেপ্টেম্বর :
হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি জেলা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে। সোমবার গভীর রাতে ধরমপুর এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি নামার পর মুহূর্তের মধ্যে বন্যা ও ভূমিধসের জেরে তছনছ হয়ে যায় গোটা শহর। ডুবে যায় ধরমপুর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকা। স্রোতে ভেসে যায় হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (HRTC) একাধিক বাস, গাড়ি, মোটরবাইক। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় দোকান ও বাড়িঘর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১১টা নাগাদ বৃষ্টি শুরু হয় এবং রাত ১টার পর তা তীব্র আকার নেয়। আচমকা ফুঁসে ওঠে সাউন নদী, যা বিয়াস নদীর উপনদী। প্রবল স্রোতে প্লাবিত হয় ধরমপুর শহর। আতঙ্কে অনেকেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। বাসস্ট্যান্ডের ভিতরে উপস্থিত যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে উপরের তলায় আশ্রয় নেন। বাজার এলাকার দোকানদাররা রাতারাতি ছাদে উঠে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। এক হোস্টেলের প্রায় ১৫০ জন শিশুকে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারীরা উপরতলায় সরিয়ে নিয়ে যান।
প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। বহু গাড়ি, মোটরবাইক ও HRTC-র বাস স্রোতে ভেসে গেছে। একাধিক বাড়ি ও দোকানে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে গিয়েছে। সকালের দিকে সাউন নদীর জলস্তর স্বাভাবিক হলেও রাতভর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কথা ভুলতে পারছেন না স্থানীয়রা।
প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজে সমস্যা হলেও, মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসন ভারী যন্ত্রপাতি নামিয়েছে। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত পুনর্গঠন কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শুধু ধরমপুর নয়, মাণ্ডির সারকাঘাট মহকুমাতেও ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু গ্রাম প্লাবিত। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিমলা ও আশেপাশের এলাকাতেও প্রবল বৃষ্টির কারণে একাধিক ভূমিধস নেমেছে, থমকে গিয়েছে দৈনন্দিন জীবন।
হিমাচলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা জয়রাম ঠাকুর এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ধরমপুর ও সারকাঘাট থেকে নিখোঁজের খবর পাওয়া অত্যন্ত চিন্তার। আমি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, এই আবহাওয়ায় সতর্ক থাকুন, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন এবং প্রশাসনের নির্দেশাবলী মেনে চলুন।”
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই মেঘভাঙা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিপর্যয় দেখা দেয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার বা প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাঁদের দাবি, এবার বিশেষ পুনর্বাসন ও সুরক্ষা পরিকল্পনা নেওয়া হোক।




