কলকাতা টাইমস নিউজ :আন্তর্জাতিক ডেস্ক :১৭ সেপ্টেম্বর :
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার স্বীকার করেছেন, ভারত কখনও কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মেনে নেয়নি। তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি খণ্ডন করছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তাঁর মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল অপারেশন ‘সিন্দুর’–এর পর।
এক সাক্ষাৎকারে দার বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অবশ্যই ওয়াশিংটনের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু ভারতের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, বিষয়টি একান্তই দ্বিপাক্ষিক। তাঁর ভাষায়, “ভারত কখনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মানেনি। আমরা আলোচনায় রাজি আছি, কিন্তু দিল্লি কোনও সাড়া দেয়নি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সেতু গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু দারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, সেই দাবি ভিত্তিহীন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে পাকিস্তান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে প্রশ্ন তোলে। রুবিও স্পষ্ট জানান, ভারত বরাবরই এই অবস্থান নিয়েছে—“এই বিষয় একান্তই দ্বিপাক্ষিক।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “১০ মে যখন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এল, রুবিও বলেছিলেন ভারত-পাকিস্তান শিগগিরই নিরপেক্ষ কোনও স্থানে বসবে। কিন্তু ২৫ জুলাই যখন ফের বিষয়টি তুললাম, তখন রুবিও জানালেন— ভারত বরাবরই বলছে, এটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু।”
দার অবশ্য জানিয়েছেন, পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আপত্তি করে না। তবে আলোচনাটি হতে হবে সর্বাঙ্গীন ও বিস্তৃত—যেখানে আলোচনার বিষয়বস্তু থাকবে সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য, অর্থনীতি, জম্মু ও কাশ্মীরসহ সমস্ত অমীমাংসিত প্রশ্ন। তাঁর ভাষায়, “আমরা তৃতীয় পক্ষ মানতে আপত্তি করি না। তবে ভারত স্পষ্ট বলছে এটা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আমরা দ্বিপাক্ষিকেও রাজি, তবে আলোচনা সর্বগ্রাসী হতে হবে।”
পাকিস্তান শান্তির পথে এগোতে চায় বলেই মন্তব্য করেন ইশাক দার। তাঁর বক্তব্য, “আমরা কোনও ভিক্ষা চাইছি না। ভারত বলছে এটা দ্বিপাক্ষিক, আমরাও তা মানি। কিন্তু আলোচনার জন্য দুই পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন। আমরা শান্তিপ্রিয় দেশ, এবং বিশ্বাস করি আলোচনাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। তবে ট্যাঙ্গো নাচতে দু’জনের দরকার।”
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, দারের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল ভারত তার অবস্থানে অবিচল— কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, কেবলমাত্র দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। অন্যদিকে পাকিস্তান যদিও আলোচনায় রাজি, তবু মূল টেবিলে আসতে ভারতের সদিচ্ছাই আসল শর্ত।




