কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / বারাণসী ,১৭ সেপ্টেম্বর :
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৫তম জন্মদিন। বারাণসীতে তাঁর মঙ্গলকামনায় বিশেষ আরতির আয়োজন হয়েছে সকাল থেকেই। রাজনৈতিক মঞ্চের বাইরে এ এক ভক্তিমিশ্রিত দৃশ্য—প্রধানমন্ত্রীকে শুধুই নেতা নয়, আধ্যাত্মিক আবহের সঙ্গে যুক্ত মানুষের চোখে ধরা গেল এক দেবভক্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবেও।
কিন্তু জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চেও আলোচনার ঝড় তুলেছে এক ফোনকল। জন্মদিনের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মোদি-ট্রাম্পের বন্ধুত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুবারই আলোচিত হয়েছে। এবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা সেই সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে তুলল। ট্রাম্পের উষ্ণ বার্তার জবাবে সোশ্যাল মিডিয়া X-এ মোদি লিখেছেন,
“ধন্যবাদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। ভারত-আমেরিকা বিস্তৃত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগে ভারত সমর্থন জানায়। এই মন্তব্যও কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের আড়ালে থেকে যাচ্ছে বাস্তব কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতকে বারবার চাপ দিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। ভারত এখনও রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন।
তবু মোদি-ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে বরফ গলেছে আলোচনায়। দিল্লিতে মঙ্গলবার দুই পক্ষের বৈঠকে নতুন বাণিজ্য অধ্যায় শুরু হলেও কৃষিপণ্য আমদানি নিয়ে মতভেদ জারি আছে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—দেশের কৃষক স্বার্থে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। আমেরিকার তরফে বিশেষ করে ভুট্টা আমদানির প্রসঙ্গ জোর দিয়ে তোলা হয়েছে।
জন্মদিনের শুভেচ্ছার পাশাপাশি ট্রাম্প ফের দাবি করেছেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য “পারমাণবিক যুদ্ধ” তিনিই ঠেকিয়েছিলেন। ভারত বারবার এই দাবি নস্যাৎ করলেও ট্রাম্প Nobel Peace Prize-এর দৌড়ে নিজের ভূমিকা জাহির করতে ছাড়ছেন না। এমনকি সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, তিনি নাকি “সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছেন”।
ভারত বরাবরই বলে এসেছে—পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হবে কেবল সন্ত্রাসবাদ নিয়ে। রাশিয়ান তেল ও বাণিজ্য ইস্যুতে চাপ থাকলেও মোদি-ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আপাতত আলোচনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। জন্মদিন তাই হয়ে উঠেছে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।




