spot_img
28 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

“অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া না মেটালে পুরসভা বন্ধ করুন”— কঠোর হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,১৮সেপ্টেম্বর  :

 বসরপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ মেটাতে ব্যর্থ একাধিক পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “যদি অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া মেটাতে না পারেন, তবে পুরসভা বন্ধ করে দিন, কিংবা প্রাইভেট হাতে তুলে দিন।”

ভাটপাড়া, টিটাগড় এবং বহরমপুর পুরসভাকে কেন্দ্র করে একাধিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর অভিযোগ জমা পড়ে আদালতে। অভিযোগ, দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার পরেও তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি প্রাপ্য পেনশন ও গ্র্যাচুইটি। ভাটপাড়া পুরসভার প্রায় ৫০০ জন কর্মী জুন মাসের পরে থেকে একটিও পেনশন পাননি। টিটাগড়ে বহু অবসরপ্রাপ্ত এখনও পাননি তাঁদের গ্র্যাচুইটির টাকা। বহরমপুর পুরসভার ক্ষেত্রেও একই ছবি— বহু কর্মী মাসের পর মাস পেনশনবঞ্চিত।

বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত এ দিন ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “এঁরা ৩০–৩৫ বছর ধরে আপনাদের জন্য কাজ করেছেন। এখন যখন তাঁদের প্রাপ্য ফেরত দেওয়ার সময় এসেছে, তখন কেন টালবাহানা? শুকনো মানবিকতার কথা বলে লাভ নেই, মানবিক হতে হলে প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিন।”

টিটাগড় পুরসভার তরফে আইনজীবী আদালতে স্বীকার করেন যে বকেয়া রয়েছে, তবে জুট মিল বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবু বকেয়া মেটানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি যুক্তি দেন। কিন্তু বিচারপতি পাল্টা সাফ জানিয়ে দেন, “টাকা কোথা থেকে আনবেন, সেটা পুরসভা ঠিক করুক। কিন্তু কর্মীদের বঞ্চনা বরদাস্ত করা হবে না। যদি মেটাতে না পারেন, পুরসভা প্রাইভেট করে দিন কিংবা বন্ধ করে দিন।”

বিচারপতি আরও বলেন, “অন্তত প্রভিশনাল পেনশন ছেড়ে দিন। দুর্গাপুজোর আগে অবসরপ্রাপ্তদের প্রাপ্যটুকু দেওয়া হোক। এটা শুধু আইনি দায় নয়, মানবিক দায়িত্বও।”

এ দিনের শুনানিতে স্পষ্ট হয়ে যায়, গঙ্গার দুই পারে ভাটপাড়া–টিটাগড় হোক বা বহরমপুর, তিনটি পুরসভার আর্থিক ভাঁড়ার কার্যত শূন্য। তবুও অবসরপ্রাপ্তদের দাবি— জীবনের শেষ সময়ে অন্তত তাঁদের প্রাপ্য যেন সময়মতো মেলে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কেবল অবসরপ্রাপ্তদের ন্যায্য দাবি মেটানোর দিকেই আলোকপাত করেনি, বরং রাজ্যের পুরসভার আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেও বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। পুজোর মুখে অবসরপ্রাপ্তদের চোখ তাই এখন হাইকোর্টের দিকেই।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks