কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,১৮সেপ্টেম্বর :
উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জনপদ ফের বিপর্যয়ে কেঁপে উঠল। প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট মেঘভাঙা বিপর্যয়ে চামোলি জেলায় ভেসে গেল একাধিক বাড়িঘর। বুধবার গভীর রাতে নন্দা নগর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এখনও পর্যন্ত ছ’টি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দশ জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা গিয়েছে দু’জনকে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকতে পারেন।
ঘটনাস্থলে রাতেই পৌঁছয় প্রশাসন। দ্রুত তল্লাশি ও উদ্ধারকার্য শুরু হয়। ইতিমধ্যেই তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স ও একটি চিকিৎসক দলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও প্রবল বৃষ্টিপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকার্যে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে—চামোলিতে আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, অনেকেই ঘরের ভিতরেই আটকে রয়েছেন, যাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে।
মাত্র চার দিন আগেই রাজ্যের রাজধানী ডেরাডুনে ভয়াবহ মেঘভাঙা বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১৩ জন। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছিল বহু রাস্তা ও দোকানঘর। ভেঙে পড়েছিল দুটি সেতু। ফলে শহরের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চামোলির নতুন বিপর্যয়ের জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড সরকার ডেরাডুন, চম্পাবত ও উদ্যম সিং নগর জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে নতুন করে প্রাণহানি, ভূমিধস ও আরও অবকাঠামোগত ক্ষতির।
COURTESEY :ANI
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী বলেন,
“আমাদের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ, রাস্তা ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যেই ৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ লাইনের মেরামতির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকিটুকু আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।”
সরকারি হিসাবে, রাজ্য জুড়ে এখনও প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও, দুর্গম এলাকায় আটকে রয়েছেন অন্তত ৯০০ মানুষ। সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী লাগাতার চেষ্টা চালাচ্ছে তাঁদের উদ্ধার করতে।
উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক এলাকা। পাহাড়ি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩ জন। পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্রমাগত মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলের সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার এই চরম রূপ পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ ও জীবনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।




