কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,১৯ সেপ্টেম্বর :
প্রতিবেশী দেশের রাজনীতি ও মন্তব্যের রেশ এসে ঠেকল কলকাতার রাস্তায়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন কলকাতার বাংলাদেশি সনাতনী অভিবাসী সমাজ। ঘটনাস্থল ছিল বেকবাগান মোড়, বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সামনে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উপদেষ্টার বক্তব্য “দুর্গাপূজার সময় গাঁজা-মদের আসর বসানো যাবে না” নিছক মন্তব্য নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সমাজকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা। প্ল্যাকার্ড হাতে, পোস্টার উঁচিয়ে তাঁরা সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে। মুহুর্মুহ স্লোগান, উত্তেজনা— পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে দেন।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, শুধু দুর্গাপূজা নয়, গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে লাগাতার আক্রমণ চলছে। মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, মহিলাদের উপর নির্যাতন, এমনকি বহু মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে— এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সংগঠনের সদস্যরা।
তাঁদের মতে, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যই প্রমাণ করে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব বাংলাদেশে ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
বিক্ষোভ শেষে ‘বাংলাদেশ (অভিবাসী) কমিউনিটি ইন ইন্ডিয়া’-র কলকাতা শাখার পাঁচজন প্রতিনিধি উপ-হাইকমিশনে গিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে তিনটি মূল দাবি তোলা হয়েছে—
১. অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উক্ত মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
২. বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক।
সংগঠনের এক সদস্য বলেন, “এ দেশে দাঁড়িয়েই আমরা বাংলাদেশের নিপীড়িত সনাতনী সমাজের পাশে থাকব। এতদিন সহ্য করেছি, কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকব না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতি ও মন্তব্য কলকাতার বাঙালি সমাজেও প্রতিক্রিয়ার ঢেউ তুলেছে। একদিকে বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে কলকাতার অভিবাসী সমাজ রাস্তায় নেমে সেই ক্ষোভ প্রকাশ করছে।




