কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,১৯ সেপ্টেম্বর :
শারদোৎসব মানেই ঢাকের তালে মাতামাতি, প্রতিমার শোভাযাত্রা, আলো ঝলমলে প্যান্ডেল আর ভিড় জমজমাট শহর। কিন্তু বাঙালির কাছে উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন ভোজের টেবিলে সাজে ইলিশ মাছ। আর সেই ইলিশ যদি আসে পদ্মার বুকে থেকে, তবে তো কথাই নেই। বহুদিন ধরে সংশয় ছিল—এ বছর কি আদৌ সীমান্ত পার হয়ে আসবে প্রিয় ইলিশ? শেষমেশ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের পদ্মা থেকে প্রথম চালানে ইলিশ এসে পৌঁছল কলকাতার বাজারে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকেছে প্রায় ৩৭.৪৬ টন ইলিশ। ভোর হতেই গড়িয়াহাট, লেক মার্কেট, মানিকতলা—সব বাজারেই মাছপ্রেমীদের ভিড় উপচে পড়ল। রুপোলি মাছের ঝলক দেখা মাত্রই মিনিটের মধ্যে খালি হয়ে গেল মাছের ঝুড়ি। বৃহস্পতিবার সকালেই দেখা গেল, এক কিলো ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১,৮০০ টাকায়। আর দেড় কিলোর বেশি ওজনের মোটা ইলিশের দাম পৌঁছেছে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। দাম চড়া হলেও উৎসবের আবেগের কাছে সেই হিসেব গৌণ হয়ে গিয়েছে।
একজন গৃহবধূ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, “পদ্মার ইলিশ পুজোর সময় ঘরে তুলতে পারা মানেই এক বিশেষ আনন্দ। এটাই তো আমাদের উৎসবের আসল স্বাদ।” আবার গড়িয়াহাটের এক মাছ বিক্রেতার দাবি, “এখনও তো শুরু মাত্র। সপ্তমী-অষ্টমীর আগে বাজার আসল ভিড়ে ভরে উঠবে। দাম যাই হোক, মানুষ ইলিশ কিনবেই।”
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ৩৭ জন রফতানিকারককে অনুমতি দিয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১,২০০ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর। পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের উৎপাদন কমলেও এই রফতানির অনুমোদনকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মার ইলিশ কেবল ব্যবসার বিষয় নয়, বরং একপ্রকার সাংস্কৃতিক কূটনীতি।
প্রতি বছর দুর্গাপুজো আসলেই ইলিশের সঙ্গে বাঙালির আবেগ আরও জড়িয়ে যায়। দেবীপক্ষের ভোরে কাশফুল যেমন আগমনী বার্তা দেয়, তেমনি পদ্মার ইলিশের আগমনও জানিয়ে দেয়—“পুজো এসে গেছে।” এ যেন দুই বাংলার আবেগের সেতুবন্ধন—একদিকে বাংলাদেশের জেলেদের জীবন-জীবিকা, অন্যদিকে কলকাতার বাঙালির উৎসবের আনন্দ।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই সোনালি উপহার শুধু বাজারকেই সরগরম করেনি, বাঙালির ভোজন-আবেগেও দিয়েছে নতুন মাত্রা। এখন অপেক্ষা সপ্তমী-অষ্টমীর দিনগুলির, যখন ভোজের আসরে রূপ, গন্ধ আর স্বাদে মাতোয়ারা করবে পদ্মার ইলিশই।




