spot_img
25 C
Kolkata
Monday, February 16, 2026
spot_img

ভাল ব্যবহারে পুরস্কার, আরও ৪৫ আজীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির মুক্তি দিচ্ছে রাজ্য সরকার !

কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা ,১৯ সেপ্টেম্বর  :

 সংশোধনাগার মানেই কেবল শাস্তি নয়, বরং সংশোধন এবং নতুন জীবনে ফেরার সুযোগ— এ বার ফের তারই সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করেছে, আরও ৪৫ জন আজীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে ব্যাখ্যা করেছেন এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির নিদর্শন হিসেবে। তাঁর কথায়, “সংশোধনাগারের কাজ কেবল অপরাধীদের বন্দি রাখা নয়। তাদের সমাজে পুনর্বাসিত করা, ভাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা— সেটাই আসল লক্ষ্য। যারা আজ মুক্তি পাচ্ছেন, তাঁরা নতুন জীবনে সমাজের সম্পদ হয়ে উঠবেন— তবেই আমাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে।”

রাজ্যের সংশোধনাগার দফতর জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডের (Sentence Review Board) সুপারিশের ভিত্তিতেই। চলতি বছরের জুলাই মাসে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে তিনজন আজীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে একই প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এবারও বন্দিদের শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং সংশোধনমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই মুক্তির অনুমোদন মিলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৮৪০ জন আজীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংশোধনাগার দফতরের দাবি, জেল আর কেবল বন্দিশালা নয়, বরং তা সংস্কারের কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্ত সেই নীতিকেই প্রতিফলিত করছে।

যদিও এই উদ্যোগে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— সমাজ কতটা প্রস্তুত তাঁদের গ্রহণ করার জন্য? সংশোধনাগার দফতরের এক কর্তা বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত বন্দিদের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ কারাবাস শেষে তাঁরা স্বাধীনতা ফিরে পাচ্ছেন। তবে সমাজ কতটা সহজে তাঁদের গ্রহণ করবে, কতটা স্বাভাবিকভাবে তাঁরা জীবনে ফিরতে পারবেন, তার উপরই নির্ভর করছে উদ্যোগের সাফল্য।”

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অন্য বন্দিদেরও প্রেরণা জোগাবে। তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উৎসাহিত হবে এবং দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার আশায় নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এটি শুধু বন্দিদের নয়, গোটা সমাজের জন্যই ইতিবাচক বার্তা। তবে সমালোচকদের মতে, মুক্তিপ্রাপ্তদের পুনর্বাসন এবং সমাজে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। না হলে উদ্যোগ কার্যকরী হবে না।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles

Enable Notifications Thank You No thanks