কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা / ইম্ফল ,১৯ সেপ্টেম্বর :
মণিপুর আবারও রণক্ষেত্রের ছবি ফুটিয়ে তুলল। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ণুপুর জেলার নাম্বোল সাবল লেইকাই অঞ্চলে আসাম রাইফেলসের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালাল জঙ্গিরা। ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৩ আসাম রাইফেলসের দুই জওয়ান, গুরুতর জখম অন্তত চারজন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ধ্যা প্রায় ৫.৪০ নাগাদ, ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে আচমকাই গুলি চালায় জঙ্গিরা। ট্রাকে করে যাচ্ছিলেন জওয়ানরা। হঠাৎ করেই গুলি ও বোমা হামলার ফলে হতাহত হন সেনা সদস্যরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছলেও ততক্ষণে প্রাণ হারান দুই জওয়ান।
এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “গত বছরের পর এটিই মণিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর সবচেয়ে বড় মারণ হামলা।” এর আগে জিরিবাম জেলায়, অসমের কাছাড় সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর একই ধরনের অতর্কিত হামলা হয়েছিল, যেখানে এক জওয়ান নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হন।
অতর্কিত এই হামলার সময়ও তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দিন পরই উপত্যকার জঙ্গি সংগঠনগুলির ডাকা বনধের ডাক রয়েছে, যা ১৯৪৯ সালের মণিপুরের ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি চুক্তির প্রতিবাদে ডাকা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই বনধের আগে আতঙ্ক তৈরি করতেই হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা।
হামলার পর থেকে সমগ্র বিশ্ণুপুর জেলা ও সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ইম্ফল শহরের মূল রাস্তাগুলিতে চেকপোস্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চলছে কড়া তল্লাশি। সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে এলাকায় কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত মণিপুরে ফের এই রক্তক্ষয়ী আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। আহত জওয়ানদের চিকিৎসার পাশাপাশি দোষীদের খোঁজে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ ও সেনা।
সব মিলিয়ে, বনধের প্রাক্কালে মণিপুরে এই হামলা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীকেই নয়, সাধারণ মানুষকেও অস্থির করে তুলেছে। এখন নজর রয়েছে—আসন্ন দিনগুলোতে আরও কোনও অশান্তি ঘটে কি না।




